ক্যাটাগরিসমূহ
Writer Choice

মা ও ছেলে


সন্ধার কিছুটা পরে বাবু ফিরে আসে

.
-আম্মু আম্মু কই তুমি, দেখো কি এনেছি?

আম্মু তুমি এখানে বসে আছো কেন?

-আমার সোনামাণিক, কোথায় ছিলি বল। কত খুঁজেছি তোকে।। আমায় ছেড়ে কোথায় গেছিলি বল।। তুই আমার একমাত্র অবলম্বন জানস না? (বুকে ধরে কাঁদতে লাগলাম, আর আদর করতে লাগলাম)
.
-আমিতো পাশের বাসার দাদুর সাথে গল্প করছিলাম। দাদু আমাকে নাড়ু মুয়া দিছে দেখো।
.
-আচ্ছা বাবা খাও, আর বলো আর কখনো আমাকে না বলে কোথাও যাবে না।।
.
-আচ্ছা,, তুমি ভেবেছিলে আমি হারিয়ে গেছি? আমিত অনেক স্মার্ট, হারাবো না।।
.
-হ্যাঁ আমার বাবু অনেক স্মার্ট, এখন খেতে বোস।
.
-তুমি খাইয়ে দাও আম্মু
.
-আচ্ছা আআ করো।
.
-অনেক মজা হইছে আম্মু, তুমিও খাও।। এই নাও।
.
সেদিনের মত খেয়ে দেয়ে বাড়ির কাজ গুলো করিয়ে শুয়ে পড়লাম।। শুয়ে শুয়ে ভাবছি
আজ কতদিন পর মানুষটাকে দেখলাম, আজও তেমনই আছে, যেমন প্রথম দিন দেখেছিলাম।
খুব সান্ত স্বভাবের।।
.
৬ বছর আগের ঘটনা-
যখন ভার্সিটিতে যেতাম তখন প্রতিদিন গেইটের সামনে মানুষটা দাঁড়িয়ে থাকতো। বুঝতাম কেন দাঁড়িয়ে থাকে কিন্তু আশায় থাকতাম যেন নিজেই আমাকে এসে বলে “শ্রাবনী আমি তোমাকে ভালবাসি, I love you, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না”
.
কিন্তু হাদারামটা ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করতো না।।।
পরে একদিন ধৈর্যের বাধ ভেঙে যখনি আমি সামনে গিয়ে জিজ্ঞাস করি, প্যান্ট খুলে যাবার উপক্রম।।
.
-এইযে মিষ্টার, এদিকে (আমি)
.
-জি, জি, কি, কি বলুন?
.
-কি আমতা আমতা করছেন, আর সোজা হয়ে দাঁড়ান।
.
-জি না মানে, ইয়ে আরকি
.
-কি মানে টানে করছেন। প্রতিদিন এভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন কেন?
.
ধমক দিয়ে বলতেই হয়তো চমকে গেলো, তবু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু হঠাৎ তার কান্ডকারখানা দেখে অবাক হই।যার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না
ও হাটু গেড়ে প্রপস করতে থাকে-
.
-তুমি আমার শ্রাবণ মেঘের শ্রাবনী, আমাকে একটু ভেজানো যায় না? তোমার শ্রাবণো বর্ষনে?
.
কি রেখে কি বলবো, বুঝতে পারছিলাম না।। সেদিন ওর প্রেমে পড়ে গেছিলাম। তার পর থেকে দুজন দুজনার কাছাকাছি।। কাছে থেকে আরো কাছে আসতে আমরা বিয়ে করে নিই।
আজ মানুষটাকে দেখে কেমন যেন বুকের ভেতরটা করে উঠছিলো।। বলতে ইচ্ছে করছিল, কেমন আছো তুমি, এখনোকি আমায় ভালবাসো? বাবু আমাদের ভালবাসা,,
.
ভাবতে ভাবতে চোখ বুজি বুজি করতে করতে ফোন।।
.
–ক্রিং ক্রিং… হেলো…(আমি)
.
-হেলো, মা শ্রাবনী
.
-মা.. এত দিন পর কল দিলা মা? তোমার মেয়ে বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে সেটা জানতে বুঝি? তোমার মেয়ে মরে গেছে মা, মরে গেছে।।। আমি শুধু বাবুর মা হয়ে বেঁচে আছি।।
ফোনটা ধরেই কাঁদতে লাগলাম, কতদিন পর আজ কোন আত্বিয়ার সাথে কথা বলছি। আমার মায়ের সাথে। চোখের জল যেন আজ আর বাধ মানছে না।।
– মা আমি নাহয় দোষ করেছি, আমার বাবুতো কোন দোষ করে নি। কেন ওর জীবনটা এমন হলো।। কত ইদ, কত কিছু গেলো কই কোন দিনতো খবর
নিলানা মা, আমরা মা-ছেলে কেমন আছি।
.
গত ঈদে যখন সব বাচ্চারা নানু বাসায় বেড়াতে গেছে আমি কোথাও নিতে পারি নি।। আমি এমনই হতভাগা মা।। আজ ফোন দিছো ক্যান?
.
—জানি আমার প্রতি তোর রাগ আছে, কিন্তু যার জন্য ফোন দিলাম।। আবির (বাবুর আব্বু) এসেছিলো
.
-কেন?
.
-তোর খোজ করতে..
.
-এতদিন পর কেন? আর ও আর একটা বিয়ে করেছে, সেই বউ কোথায়?
.
–আবির (বাবুকে)বাচ্চাকে খুজতে এসেছিলো। ওর বউর নাকি বাচ্চা হবে না।।
.
-আমার বাবুকে নিতে এসেছিলো!? মা তুমি শুনেরাখো আমার বাবুর দিকে কেও হাত বাড়ালে আমিতাকে খুন করে ফেলবো। খুন করে ফেলবো বলেদিলাম।।
.
বলতে বলে ফোনটা কেটে দিলাম, বাবুকে বুকে জড়িয়ে আছি। আমার বেঁচেথাকার শেষ সম্বল। ওর জন্যই বেঁচে আছি,, বার বার সুইস্যাড করতে গিয়ে ফিরে এসেছি।
.
আমি আমার সন্তানকে হারাতে পারবো না, আল্লাহ আমার প্রতি তুমি এমন অবিচার করো না। আমার বুকটা খালি করে দিও না।।
আমি আর কিছু চাইনা, আমি শুধু আমার বাবুকে নিয়ে থাকতে চাই।।
.
সেদিন বাবুকে বুকে নিয়ে ঘুমাই। বুক থেকে নামালেই মনেহয় এইবুঝি বাবুকে হারিয়ে ফেল্লাম। তাই আমার বুকেই রাখলাম সারা রাত।।
.
সকালে উঠে নাসতা করেতেছি-
.
–বাবু, বাবা আমার,,তোমাকে যদি কেও অনেক চকলেট দেয়, অনেক খেলনা দেয় তুমিকি তবে আমাকে রেখে তার সাথে চলেযাবে?
.
-কখনই না মা।। আমি চাইনা চকলেট, আমি চাইনা আইসক্রিম। আমি শুধু তোমাকে চাই আম্মু,,
আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো।।
.
–তোকে মাটিতে রাখিনি পিঁপড়ার ভয়ে, মাথায় রাখিনি চীলের ভয়ে। তোরে এই বুকে রাখছি। তুই হারিয়ে গেলে বুকটা খালি হয়ে যাবে। আমার বাঁচার মানেটাই হারিয়ে যাবে।
মা ছেলে একে অপরকে ধরে কাঁদছি ছেলেটাও আমাকে জড়িয়ে ধরে কেদেই চলেছে।
.
কাল রাতে নাপা খাওয়নোতে জ্বর বেশ নেই বল্লেই চলে। মাসের শেষ ডাক্টার দেখানোর টাকা নেই তাই একটা নাপার অর্ধকটা ভেঙে খাইয়ে দিয়েছিলামম
.
দুজনে একসাথে স্কুলে যে যার কাজে চলে গেলাম।
বাসায় ফিরতে সময় বাবু বল্লো।
.
–আম্মু, কালকের লোকটা আমাকে অনেক চকলেট দিয়েছে। তার সাথে গেলে নাকি আরো অনেক চকলেট দিবে।।।
.
রাস্তাতেই চকলেট গুলো ফেলে বাবুকে পেটাতে পেটাতে নিয়ে এলাম। আর বলতে লাগলাম।
-এত চকলেটের লোভ কেন তোর? আমার মাথা খা, আমাকে আর জ্বালাস না। ইত্যাদি ইত্যাদি
.
হাতের স্কেল দিয়ে স্বজোরে দুটো বাড়ি দিতেই বাবা গো.. মা.. গো বলে চিৎকার দেয়।। বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুছড়ে আসে।।।
আমার বুকটাওযে ছিড়ে যাচ্ছে.. বাবু তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস বাবা। তোর মাকে ক্ষমা করে দিস। তোর মা তোর বাবাকে যে এনে দিতে পারবে না।।
-লোকটাকি তবে আমার কাছ থেকে বাবুকে কেড়ে নিবে? এর জন্যইকি তবে বাবুকে চকলেট দিয়ে ওর কাছে আসতে চাচ্ছে? ভাবতে ভাবতে মাথা ঘুড়ছে।।

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.