ক্যাটাগরিসমূহ
Writer Choice

অব্যর্থ অর্জুন


love@sajebbd

অর্জুন অনেকটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে…জীবনে অনেক কিছুই পাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ইচ্ছাটা স্বপ্নের মাঝেই সিমাবদ্ধ রাখাটা অনেকটা অভ্যাসে পরিনত করে ফেলেছে…বন্ধু বান্ধব এই নিয়েই অনেকটা থাকতে পছন্দ করে।পার্কে বসে বন্ধুদের সাথের আড্ডাটা ওর কাছে ভালই লাগে।।
-কিরে দোস্ত…ওইটা কি গেম রে।।খালি দেখি দৌড়ায়।।
-এইডা টেম্পল রান গেম।।
-আচ্ছা আমার মোবাইল কি গেম টা চলবে রে?
-দেখি তোর কি মোবাইল?
অর্জুনের মোবাইল টা অনেক আগের…নোকিয়া ১১০০।বার করতে একটু লজ্জা লাগছিল।।যদিও বাবা এই মোবাইল টা ৮০০০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিল। মোবাইল টা যখন কিনে তখন বোধহয় ও ক্লাস ২ তে পরতো।ওদের এলাকায় মাত্র ৩ টা বাসায় মোবাইল ছিল।অনেকেই ওদের মোবাইল ব্যবহার করত।এখন তো সবার হাতে হাতে মোবাইল।সবার মোবাইল চেইঞ্জ হলেও ওদের টা হয় নি।বাবার চাকরিটাও আগের মতই আছে।এই মোবাইল টা অর্জুনকে দেওয়া হয় ও যখন ক্লাস ১০ এ পড়ে। স্যার এর বাসায় পড়া শেষ হতে হতে রাত্রি হয়ে যেত।তাই মা অনেক বলে বাবার কাছ থেকে নিয়ে মোবাইল টা অর্জুনকে দিয়ে দেয়।অনেক খুশি হয়েছিল ও সেইদিন।
-এই দেখ…
পকেট থেকে মোবাইল টা বের করলো।

-এইটা কিরে?!!!
কথাটা বলল সাজিদ… ওর মোবাইল টা অনেক দামি।।শুনেছি ওর মামা USA থেকে ওকে ওর বার্থডেতে গিফট করেছে।গালাক্সি এস ৪ মোবাইল।
-হম এইটাই।।
-ওই মারুফ…দেখ কি বের করছে অর্জুন…
-কিরে কি? মারুফ বলল।।
-দেখেছিস ওর মোবাইল তা?জাদুঘর থেকে নিয়ে এসেছে।।
-আরে সাজিদ…ওর মোবাইল টা অ্যানড্রয়েড পান্তাভাত ভার্সন…তাই না রে অর্জুন?
অর্জুন কিছুটা ছুপ হয়ে রইলো…বুঝতে পারলো ওরা ওকে নিয়ে মজা করছে…ওর কিছু করার ছিল না আর কিছু বলারও..
সেইদিন অর্জুন ছলে আসলো খুব কষ্ট খারাপ লাগছিল…বাসায় ফিরেও মনমরা।মা খেতে ডাকল…খাবার টেবিলে অর্জুন কিছুটা চুপ থাকায় বাবা বুঝতে পারল স্কুলে কিছু একটা হয়েছে।
-কিরে অর্জুন..কি হয়েছে তোর?
-কিছু না বাবা…
-আমার কাছ থেকে কিছু লুকাতে পারবি নাহ।।বল তো কি হয়েছে?
-না মানে বাবা……আমার একটা মোবাইল চাই…
– একটা তো আছেই…আবার আরেকটা?
-বাবা আমার অ্যানড্রয়েড মোবাইল চাই…
-কি বলিস?সেতো অনেক দাম শুনেছি?তুই তো জানিসই আমাদের কি অবস্থা…আর সামনে তোর বর বোনের বিয়ে।এত টাকা হাতেও নেই…
অর্জুন বুঝতে পারলো ওর বাবার অবস্থা…তাই কিছু না বলেই টেবিল থেকে উঠে পরলো…বাবার কাছ থেকে অর্জুন তেমন কিছু চাই নি আগে কখন।এবারিই বাবার কাছে একটা বড় কিছু চাইল।
রাতে যখন পরছিল তখন দেখি ওর কাছে বড় বোনটা আসলো।অর্জুনের অনেক ভাল বন্ধু ওর দিদি।আজ পর্যন্ত ওর কাছে কিছু লুকাই নি…
-কিরে… তোর কি মোবাইল দরকার?কত দাম হবে ওটার?
-না রে দিদি।।লাগবে না। তোর কয়েদিন পর বিয়ে…
_অনেক বড় হয়ে গেছিস দেখি…বল কত দাম ওটার?
-দিদি…লাগবে না বললাম তো…
-বল…
কিছুতা মাথা নিছু করে বললাম…
-এই ৫০০০-৫৫০০ হবে আর কি…
দিদির চেহারা দেখে বুঝা গেলো দামটা তার কাছে অবাক করার মত কিছু ছিল…কিন্ত মুখের একটা মলিন হাশি দিয়ে অবাক করা চেহারা পালটে দিয়ে বলল…
-আমার কাছে তো হাজার তিনেক আছে।আর বাকিটা বাবা কে বলে ম্যানেজ করে নিবো… ওকে?
-ওকে…তুই খুব ভাল রে দিদি…
সেইদিন রাতে একটু ওর ঘুম হচ্ছিল নাহ।।মোবাইল এর কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছে সেটা সে নিজেও জানে না…
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠল দিদির ডাকে…বাবা অর্জুনকে ডাকছে…
বাবার ঘরে গিয়েই দেখলো বাবা,মা দুজনেই আছে…
-এই নে তোর মোবাইল এর টাকা…এখানে ৬০০০ টাকা আছে।পাশের বাসার ভাবির কাছ থেকে তোর মা ধার করেছে ১০০০ তাকা…আর আমি দিয়েছি ৩০০০ তাকা…বাকিটা তোর বোনের।
-থাঙ্কু বাবা… তুমরা অনেক ভালো।।
-এবার যা।।ভাল ক্যামেরা দেখে মোবাইল টা কিনবি…বাশায় এশে সবাই মিলে ছবি তুলবো কিন্ত…
কি যে খুশি লাগছিল ওর…বলে বুঝাতে পারবে না…অর্জুন আর ওর বন্ধু আফ্রিদি মিলে গেলো মোবাইল কিনতে…অনেক ভালো একটা মোবাইল কিনলো
ক্যামেরা টাও ভালো…
মোবাইল টা কিনেই পার্কে আসলো বন্ধুদের দেখাতে…সবাই অর্জুনের মোবাইল দেখি অনেক খুশি…
-কিরে দোস্ত তুই নিউ মোবাইল কিনেছিস???!!!!!!
কথাটা বলল মারুফ…এই প্রথম বোধহয় ও আমাকে দোস্ত বলল…বন্ধুত্তটা তাহলে মোবাইল নির্ভর ছিল এতদিন..সবাই অর্জুনের ক্যামেরা দিয়ে সেলফি তুলল…
পার্কের আড্ডা টা শেষ হাওয়ার পড়ই বাশায় ফিরছিল অর্জুন…মসজিদের রাস্তা টা পার হতেই নির্জন রাস্তা টা পরে…ওখানে লোকজন কম থাকে…দিনের বেলা হাট তেই ভয় লাগে…ঠিক সেই সময় ই একজন ছেলে(অবশ্য ছেলে বললে ভুল হবে ভালই বয়স) ওকে ডাকছিল… অর্জুন বুঝতে পারি নি ওর উদ্দেশ্য টা কি।কাছে যেতেই পকেট থেকে মরিচা ধরা পিস্তল বের করে ওর মাথায় ঠেকাল।
-যা আছে তারাতারি বাইর কর…
অর্জুনের মানি ব্যাগে ছিল ৫ টাকা। আর পকেটে ছিল ওর নতুন মোবাইল টা।
-না ভাই আমার কাছে কিছুই নাই তেমন…
-ভালই তহ মিছা কথা কস দেহি…দেখছস হাতে কি? ঘোড়ায় টিপ মারলে একবারে শেষ হইয়া জাবি কইলাম…
অর্জুন আগে কখন পিস্তল দেখে নি।।এটাই তার দেখা প্রথম পিস্তল।তাই ও অনেক ঘাভ্রে যায়…
-ভাই আমাকে ছেড়ে দেন…
-আমার ঈদ এর মার্কেট করা লাগব…তারাতারি যা আছে বাইর কর…
কথাটা শেষ করার আগেই অর্জুন পালানর চেষ্টা করে…কিন্ত লোকটা ওকে আবার ধরে ফেলে…সাথেসাথেই ওর পকেটে হাত ধুকিয়ে ওর মোবাইল টা বাইর করে নাই…।
-ভাই মোবাইল টা দিয়ে দেন…আজকে কিনেছি ভাই…
অনেকটা কেদেই ফেলে অরজুন…ওর পায়ে ধরে কাদতে থাক ও……
-তোরে যদি তোর মোবাইল টা দেই তাইলে ঈদ এর মার্কেট টা কি তুই কইরা দিবি হালা?????পা ছার কইতাছি…
-না ছারব নাহ…আপ্নে আমার মোবাইল টা দেন…নাইলে আমি এখন ই লোক ডাকবো…
-এতো বড় সাহস তর?????তুই আমারে ভয় দেখাস?এই লও…
হঠাত এক বিকট শব্দ… কয়েকটা কাঁকের কা কা সব্দ…তারপর আবার সেই নিস্তব্ধতা…ঝাপসা চোখে দেখতে পেল সেই চোরের খিপ্রতা।ঠিক সেই টেম্পল রান গেম এর দুরন্ত পথিকের মত…যার পেছনে তারা করছে বিশাল দেহি দানবটা।সেই পর্যন্ত অর্জুনের ঝাপসা চোখটা আর ঝাপসা নেই হয়ে গেছে অন্ধকার।।।।

Facebook- http://www.facebook.com/sajebraj

 

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.