ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

প্রয়োগ ললিতা শক্তিপীঠ


No image

মা সতী দেবীর হাতের দশ আঙ্গুল
পতিত হয়েছিল প্রয়োগ ধামে ।
দেবী সম্বন্ধে জানা যাক ।
প্রয়োগে শক্তিপীঠের দেবী
হলেন ললিতা আর ভৈরবের নাম
ভব । তবে শিবচরিত মতে দেবীর
নাম কমলা আর ভৈরবের নাম
বেনীমাধব । আবার ভারতচন্দ্রের
লেখাতে পাওয়া যায় এখানে দেবী
দশমহাবিদ্যা রূপে দশ জন ভৈরবের
সাথে অবস্থান করেন । কারন
এখানে দেবীর হাতের দশ আঙ্গুল
পতিত হয়েছিল । তন্ত্রচূড়ামণি
শাস্ত্র মতে বলে-
অঙ্গুলিবৃন্দং হস্তস্য প্রয়োগে
ললিতা ভবঃ ।
সত্য যুগের কথা । ভণ্ডাসুর নামক
এক অসুর ছিল । সে জগদম্বা কে
মোটেই সহ্য করতে পারতো না ।
একদা অসুরগুরু শুক্রের পরামর্শে
সে মহাদেবের কঠিন তপস্যা করে
অজেয় ও দুর্জয় হয়ে গেলো ।
তারপর সে ভয়ানক তাণ্ডব শুরু
করলো । হত্যা, খুন, ধর্ষণ
আসুরিক প্রবৃত্তির কোনো
কাজ সে বাকী রাখলো না। মুনি-
ঋষি দের হত্যা করে ধার্মিক
ক্রিয়া সকল বন্ধ করে দিল ।
তাতেও তার আশ মিটলো না ।
স্বর্গ রাজ্য দখল করে
দেবতাদের তাড়ালো। ভগবান
শিবের বর থাকার জন্য ইন্দ্র
দেবতার বজ্র অস্ত্র বিফল হল ।
দেবরাজ ইন্দ্রদেবতার পত্নী শচী
দেবী অপূর্ব সুন্দরী । তাই অসুর
শচী দেবীকে বন্দী করতে গেলো ।
ভয়ে শচী দেবী কৈলাশে গিয়ে
ভগবতী মা পার্বতীর শরণে
আসলো । মা পার্বতী অভয় দিয়ে
বললেন- “ দেবী শচী। তুমি নির্ভয়ে
এখানে থাকো। এখানে সেই অসুর
কোন ক্ষতি করতে পারবে না।”
একদা ভণ্ডাসুর শচী দেবীকে
প্রাপ্তির আশায় বিশাল অসুর
সেনা নিয়ে কৈলাশে আক্রমণ
করলো । দেবাদিদেব মহাদেব
জানতেন – দেবীর হাতেই অসুর
নিধন সম্ভব । কিন্তু দেবীর অসুর
দলনী শক্তিকে জাগাতে হবে ।
তাই তিনি অনুচর দের নিয়ে অদৃশ্য
হলেন । অসুর রা কৈলাশে এসে
তাণ্ডব শুরু করে নন্দীকে বন্দী
করলেন । মা পার্বতী চিন্তিত
হলেন- তখন নারদ মুনি আবির্ভূতা
হয়ে মাকে স্তব করলেন।
নারদ মুনি বললেন- “ হে জগদম্বা
। তুমি আদিশক্তি , তুমিই
পরাবিদ্যা । তুমি মহাবিদ্যা । হে
মাতঃ তুমি মুক্তিদাত্রী, তুমি
মহাশক্তিরূপিনী । হে চণ্ডিকা তুমি
দানব কূলকে নাশ করতে সমর্থা ।
হে মহেশ্বরী তুমি মহাকালী, তুমি
প্রলয় স্বরূপা । হে আদিশক্তি
মাতঃ তুমি তোমার সেই অন্তর
শক্তিকে জাগরিত করে দেখো-
তুমি কে, হে জগতজননী তুমি এই
অসুর দের বিনাশ করে ধরণী কে
পাপমুক্ত করো।” নারদের স্তবে
মা পার্বতীর স্বরূপ জাগরিত হলে
তিনি ভয়ানক দেবী মূর্তি ধরে
অসুর দের বিনাশ করতে লাগলেন ।
দেবীর বাহন সিংহ অসুর দের রক্ত
মাংস পান করতে লাগলো ।
এভাবে যখন দেবী ভণ্ডাসুরকে বধ
করতে যাবেন, তখন প্রজাপতি
ব্রহ্মা এসে বলল- “ হে মহামায়া,
হে ব্রহ্মবিদ্যা । এই অসুরের আয়ু
এখনও শেষ হয় নি। বিধাতার
বিধানে এর আয়ু বাকী আছে । হে
মাতঃ তুমি চাইলে বিধির বিধান
বদলে দিতে পারো। কিন্তু তাতে
সৃষ্টি নিয়মের উলঙ্ঘন হবে।”
তখন দেবী শান্ত হয়ে বললেন-
“ওরে মূঢ় অসুর, তোর জীবন
আমি ফিরিয়ে দিলাম। বাকী জীবন
ধর্ম পথে থেকে সৎ ভাবে থাকবি ।
যদি তুই আসুরী প্রবৃত্তি বন্ধ না
করিস, তবে তোর ধ্বংস আমি
করবো। ”
অসুর ফিরে গিয়ে আরো ভয়ানক
হল । ভয়ানক পাপ কাজ করে
বেড়াতে লাগলো । তখন ইন্দ্রাদি
দেবগণ মহাশক্তির আহ্বান
করতে লাগলেন নানা স্তব স্তুতি
দ্বারা তখন দেবগুরু বৃহস্পতি
তান্ত্রিক যজ্ঞ দ্বারা দেবীকে
তুষ্টা করতে পরামর্শ দিলেন ।
দেবতারা দেবীর যজ্ঞ করে নিজ
দেহ থেকে মাংস আহুতি দিলো ।
কিন্তু দেবী তাতেও প্রকটিতা
হচ্ছেন না দেখে দেবতারা নিজেদের
আহুতি দিতে উদ্যত হলে
হোমাগ্নি তে তারা এক জ্যোতি
দেখতে পেলেন। দেখলেন সেখানে
রক্ত বস্ত্র পরিধানা চতুর্ভুজা
এক দেবী প্রকট হলেন । দেবতারা
স্তব করলেন। ইনি দেবী ললিতা।
দেবী ললিতার থেকে বালাম্বা,
মন্ত্রীনি ও বারাহী নামে ৩ দেবীর
সৃষ্টি হল। দেবীরা প্রচণ্ড যুদ্ধ
শুরু করলেন। অসুরদের ছিন্নভিন্ন
করতে লাগলেন । একে একে বড়
বড় অসুর নিহত হল। অন্তিমে
দেবী ভণ্ডাসুরকে বধ করলেন।
ধরণী পাপ মুক্ত হল । দেবতারা
স্বর্গ রাজ্য ফিরে পেলেন ।
( চলবে )

 

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.