ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

কালীঘাট শক্তিপীঠ (চতুর্থ পর্ব )


No imageএভাবে কালীঘাট পীঠ স্থাপিত হল
। মায়ের পূজো শুরু হল । কিন্তু
ভৈরব পাওয়া গেলো না। ভৈরব
ছাড়া মায়ের পূজো কিভাবে
সার্থক হবে ? তাই শুরু হল ভৈরব
খোঁজার । শক্তিপীঠের পাশেই
ভৈরব থাকেন । একদা ভোরবেলায়
সাধক ব্রহ্মানন্দ মায়ের পূজোর
জন্য পুস্প চয়ন করছিলেন। তিনি
দেখলেন একস্থানে একটি গাভী
দুধ দিচ্ছে । মাটি সড়াতেই
স্বয়ম্ভু শিবলিঙ্গ উঠে আসলো
। আত্মারাম আর ব্রহ্মানন্দ
বুঝলেন ইনিই মায়ের ভৈরব
নকুলীশ শিব । তাঁরা সেখানে বাঁশ
আর গঙ্গার ধারের হোগলা পাতা
দিয়ে মন্দির বানিয়ে শিব পূজো শুরু
করলেন । অপরদিকে কালীঘাটের
সম্মুখে যে পুকুর ছিল- যেখানে মা
সতী দেবীর চরণের আঙ্গুলি পতিত
হয়েছিল , সেই পুকুরের ধারে এক
ব্রাহ্মণ আর ব্রাহ্মণী কালী
সাধনা করতে এসেছিলেন ।
জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা চতুর্দশীর
রাতের ঘটনা । ব্রাহ্মণী দেখলো
পুকুরে উজ্জ্বল এক বস্তু ভেসে
বেড়াচ্ছে । ব্রাহ্মণী চেঁচিয়ে
ব্রাহ্মণ কে জানালো । দুজনের
চিৎকারে আত্মারাম আর
ব্রহ্মানন্দ সেখানে ছুটে গেলেন ।
জল থেকে চকচকে বস্তুকে
তুললেন । বুঝলেন সেটিই মা সতীর
আঙ্গুলি । দুজনে মিলে মায়ের
বেদীর সামনে সেটি প্রতিষ্ঠা
করলেন ।
পুরানো রীতি মেনে এখনও সুগন্ধি
তেল, মধু, চন্দন, ঘৃত দ্বারা সেই
পবিত্র সতী অঙ্গ কে স্নান
করানো হয় । তবে এটা গুপ্ত রূপে
হয় । নকুলীশ ভৈরবের মন্দির
নির্মাণ করেন পাঞ্জাবের
অধিবাসী তারা সিং । ১৮৫৫ সালে
শিবের মন্দির টি তৈরী হয় । তারা
সিং ছিলেন একজন ব্যবসায়ী ।
তিনি ধার্মিক ছিলেন । একদা তিনি
ভাবলেন কাশীধামে যাত্রীদের
জন্য একটি যাত্রীনিবাস বানাবেন
। একদা তিনি কাশীধামে নৌকো
নিয়ে গেলেন। কিন্তু এক আশ্চর্য
কাণ্ড হল। কাশীধামের ঘাটে
নৌকো আর আসতেই চায় না।
মাঝি মাল্লারা অনেক চেষ্টা করে
নৌকো ঘাটে আনতে পারলেন না।
নৌকো আপন ইচ্ছায় ভেসে চলল
। তারা সিং মাঝিদের বললেন-
“দেখা যাক নৌকো কোনদিকে
যায়।” নৌকো এসে কালীঘাটে
ভিড়লো । তারা সিং দেখলেন
সেখানে মায়ের মন্দির নির্মিত
হলেও ভৈরবের মন্দির নেই । তারা
সিং সেখানে ভৈরবের একটি
মন্দির নির্মাণ করলেন । শাক্তরা
অতি উদার। তাই শাক্তরা মা
কালীর সাথে ভগবান রাধামাধবের
পূজো করেন । কালীঘাটেও
শ্যামরায়ের মন্দির আছে ।
এই হল সংক্ষেপে কালীঘাটের
বর্ণনা । কালীঘাটে প্রচুর বলি হয়
। জনশ্রুতি অনুসারে কোনো
একসময়ে এখানে নর বলিও হতো
। কিন্তু সেসব বহুকাল আগের
কথা । বর্তমানে এখানে ভক্তেরা
পশুবলি প্রদান করেন । জৈনেক
এক পাণ্ডার কাছে শুনেছিলাম
বিশেষ তিথিতে পশু হাতে ভক্তের
লাইন পড়ে। বলি দিতে দিতে
পাণ্ডার হাতব্যাথা হয়ে যায়- এমন
অবস্থা । আপনারাও চাইলে
কলকাতায় এসে মায়ের মন্দির
দর্শন ও বলি দিতে পারেন ।
দক্ষিণা কালী হলেন মহামায়া
আদ্যাশক্তি । দীক্ষিত
অদীক্ষিত সকলেই দক্ষিণা
কালীর পূজো করতে পারেন ।
কোনো বাধা নিষেধ নেই ।
পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ দের
বিরূদ্ধে লড়বার জন্য যাঁরা
সশস্ত্র বৈপ্লবিক আন্দোলনে
যুক্ত হতেন তারা কালীঘাটে এসে
শপথ নিতেন । তাই ব্রিটিশ পুলীশ
দের নজর এই কালীঘাটে ছিল ।
খ্রীষ্টান পাদ্রী গন সে সময়ে
যেভাবে হিন্দুদের নিজ ধর্মে
টানতেন এবং ব্রিটিশ দের
অত্যাচারে লাঞ্ছিত হিন্দুদের
দুঃখ দেখে মা কালীর আসন টলে
উঠেছিল । তাই তিনি পাঠালেন
সাধক রামপ্রসাদ,সাধক বামদেব,
স্বামী বিবেকানন্দ কে । স্বয়ং
নারায়ন অবতার নিয়েছিলেন ঠাকুর
রামকৃষ্ণ রূপে । এঁনারা হিন্দু
জাতিকে সঙ্ঘবদ্ধ ও সুসংগঠিত
করে ব্রিটিশ মিশনারিদের
চক্রান্ত খর্ব করেছিলেন ।
( সমাপ্ত… আগামী পর্বে থাকবে
প্রয়োগের ললিতা
শক্তিপীঠ )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.