ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

কালীঘাট শক্তিপীঠ ( তৃতীয় পর্ব )


No image

মা কালী এই স্থানে কিরূপে
স্থাপিতা হলেন- তাঁর একটি
কাহানী পাওয়া যায় । বহু কাল
আগে এই স্থানে আত্মারাম
ব্রহ্মচারী নামক এক মাতৃসাধক
থাকতেন । তিনি এই স্থানে একটি
জলন্ত কুণ্ডের ওপরে গাছে
ঝুলন্ত অবস্থায় সাধনা করতেন ।
আগুনের তাপ সহ্য করে তিনি
কঠোর ভাবে মা কালীর দর্শন
লাভের জন্য তপস্যা করছিলেন ।
একদা মাকালী সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে
দর্শন দিয়ে বললেন- “ বৎস্য
আত্মারাম। তোমার তপস্যায়
আমি তুষ্টা হয়েছি। তুমি তপস্যার
শুরুতে যে শিলাতে বসে আমার
তপস্যা করছিলে সেটি ব্রহ্ম শিলা
। ঐ শিলাতে বসে প্রজাপতি
ব্রহ্মা আমার তপস্যা করেছিলেন
। হে আত্মারাম শোনো,
দক্ষিণের নীলগিরি পর্বতে
ব্রহ্মানন্দ গিরি নামক আমার
এক ভক্ত আছে । সেই ভক্ত
আমাকে একটি শিলার মধ্যে
আবদ্ধ করে রেখেছে । সেখানে
আমি তার কন্যা রূপে আছি। আমি
এখানে তোমাদের দ্বারা
কালিকারূপে স্থাপিতা হয়ে
জগতের মঙ্গল করতে চাই । তুমি
ঐ ব্রহ্ম শিলার ওপর
ব্রহ্মানন্দের শিলাকে স্থাপন
করে আমার রূপ দেবার চেষ্টা
করবে । তোমার সম্মুখের
পুকুরের মধ্যে আমার সতী রূপের
পায়ের চারটি আঙ্গুলি পতিত
হয়েছে।”
আত্মারাম মায়ের আদেশ পেয়ে
দাক্ষিণাত্য যাত্রা করলেন ।
তখনকার দিনে ট্রেন বাস ছিলো
না। গো শকট ভাড়া করে যাবার
অর্থ আত্মারামের ছিলো না।
সুতরাং পদব্রজে ভরসা । অনেক
দূর যেতে যেতে আত্মারাম ক্লান্ত
হয়ে পড়লেন । হাটতে হাটতে
পায়ের তলায় ঘা হয়ে ক্ষত হল ।
মা কালী নিজে এক বালিকার রূপে
এসে তার রোগের নিরাময় করলেন
। একসময় আত্মারামের সাথে
ব্রহ্মানন্দ গিরির সাক্ষাৎ হল ।
সাধক ব্রহ্মানন্দ মায়ের আদেশ
পেয়েছিলেন । কিন্তু মাকে ছাড়তে
তার মন চাইলো না । মা কালী
দর্শন দিয়ে বললেন- “ব্রহ্মানন্দ
। আমি কন্যা রূপে তোমারই সাথে
থাকবো । কিন্তু যেদিন তুমি
আমাকে বিদায় দেবে- সেদিনই
আমি চলে যাবো । এখন তোমরা
সত্বর এই স্থান পরিত্যাগ
করো। কারন অতি অল্প কাল
পড়েই এই স্থান সমুদ্রে বিলীন
হবে ।” কথিত আছে এরপর মা
কালী চোখের নিমিষে তাঁদের সুদুর
নীলগিরি থেকে কালীঘাটে নিয়ে
আসেন। যাই হোক দেবীর মূর্তি
নির্মাণ করার চেষ্টা করলো-
কিন্তু তাঁরা পারলো না। অবশেষে
মায়ের আদেশে দেবশিল্পী
বিশ্বকর্মা প্রকট হয়ে মা কালীর
মূর্তি নির্মাণ করলেন ব্রহ্ম
শিলার ওপরে ।
ব্রহ্মানন্দ যখন মাকে দর্শন
করতে চাইতেন – তখুনি মা কন্যা
রূপে আসতেন । মা আর ছেলের
বাৎসল্যের লীলাখেলা চলতো ।
একদা মা কালী একটি বাগদী
মেয়ের রূপ ধরে ব্রহ্মানন্দের
পূজাতে বিঘ্ন উৎপন্ন করে খিল
খিল করে হাসছিলেন । এতে রাগে
ব্রহ্মানন্দ বলে উঠলেন-
“হতচ্ছারী মেয়ে। দূর হ মন্দির
থেকে।” ব্রহ্মানন্দ এর কাছে মা
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন যে যতদিন
ব্রহ্মানন্দ না তাড়াবে- মা যাবেন
না । তাই মা কালী স্বরূপে এসে
বললেন- “ব্রহ্মানন্দ তুমি
আমাকে চলে যেতে বললে, আমি
তোমার থেকে চলে গেলাম। আর
তোমাকে কন্যা রূপে দর্শন দেবো
না।” এই হল কালীঘাটের মায়ের
স্থাপনার কাহানী ।
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.