ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

কালীঘাট শক্তিপীঠ


No imageএই পীঠ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী
কলকাতা শহরে অবস্থিত ।
এখানে দেবীর ডানপায়ের চারটি
আঙ্গুল পতিত হয়েছিল । দেবী
হলেন কালিকা আর তাঁর ভৈরব
হলেন নকুলীশ বা নকুলেশ্বর ।
দেবী এখানে দক্ষিণা কালী রূপে
পূজিতা হন । কবি ভারতচন্দ্র তার
অন্নদামঙ্গল কাব্যে লিখেছেন-
কালীঘাটে চারিটি আঙ্গুল ডানিপার

নকুলেশ ভৈরব কালিকা দেবী তার
।।
বৃহন্নীল তন্ত্র ও শিবার্চন
তন্ত্র শাস্ত্রে ‘কালীঘট্ট’ নামক
একটি স্থানের উল্লেখ পাওয়া
যায় । দশমহাবিদ্যার প্রথম
মহাবিদ্যা হলেন মা কালী যাঁকে
আমরা দক্ষিণা কালী রূপে
দীপান্বিতা অমাবস্যায় পূজা করি।
মা কালী হলেন আদ্যা মহাবিদ্যা-
পরম ব্রহ্মময়ী ।
এই শক্তিপীঠের কথা কিভাবে
প্রচারে আসলো- বলছি । বহু
আগের কথা। তখন কলকাতা ছিল
গ্রাম । আজকের মতো মহানগরী
নয় । কলকাতাকে নির্মাণ করেন
জব চার্ণক । যেই সময়ের কথা
বলা হচ্ছে সেই সময় গঙ্গার
দুপাশে বহু এলাকা ঝোপ ঝাড়ে
জঙ্গলে ভর্তি ছিল । এখানে
ওখানে শেয়ালের বাস । একদা
বড়িশার নামকরা সাবর্ণ
রায়চৌধুরীর পরিবারের সন্তোষ
রায় ব্যবসার কাজে গঙ্গায়
নৌকো করে যাচ্ছিল্লেন । নদীর
দুপাড়ে ঘন জঙ্গলে ঢাকা ।
সন্তোষ রায় মা কালীর একনিষ্ঠ
ভক্ত ছিলেন । নদীতে যাবার সময়
একস্থানে তিনি শুনতে পেলেন দূর
থেকে শঙ্খ, কাঁসরের আওয়াজ
ভেসে আসছে । সন্তোষ বাবুর
মনে হল এখানে নিশ্চয়ই কোথাও
মায়ের মন্দির আছে । মাঝিকে
নৌকো তীড়ে রাখতে আদেশ
দিলেন । এরপর সন্তোষ বাবু
দিনেদুপুরে ঘোর অন্ধাকারাচ্ছন্ন
জঙ্গলে সেই শব্দ অনুসরণ করে
এগিয়ে চললেন । জঙ্গলে বিষধর
ফনী ও শিবা গনের চিহ্ন দেখতে
পেলেন । কিছুটা গভীরে গিয়ে
দেখলেন এক ব্রহ্মচারী মা কালীর
বিগ্রহ পূজা করছেন । সেই
ব্রহ্মচারী দক্ষিণা কালীর ধ্যান
মন্ত্র পাঠ করছেন-
ওঁ করালবদনাং ঘোরাং
মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাম্ ।
কালিকাং দক্ষিণাং দিব্যাং
মুণ্ডমালাবিভূষিতাম্ ।।
সদ্যশ্ছিন্নশিরঃ
খড়্গবামাধোর্ধকরাম্বুজাম্ ।
অভয়ং বরদঞ্চৈব
দক্ষিণোদ্ধার্ধপাণিকাম্ ।।
মহামেঘপ্রভাং শ্যামাং তথা চৈব
দিগম্বরীম্ ।
কন্ঠাবসক্তমুন্ডালী-
গলদ্রুধিরচর্চিতাম্ ।।
কর্ণাবতংসতানীতশ
বযুগ্মভয়ানকাম্ ।
ঘোরদংষ্ট্রাং করালাস্যাং
পীনোন্নতপয়োধরাং ।।
শবানাং করসংঘাতৈঃ কৃতকাঞ্চীং
হসন্মুখীম্ ।
সৃক্কদ্বয়গলদ্রক
্তধারাবিস্ফুরিতাননাম্ ।।
ঘোররাবাং মহারৌদ্রীং
শ্মশানালয়বাসিনীম্ ।
বালার্কমণ্ডলাকা
রলোচনত্রিতয়ান্বিতাম্ ।।
দস্তুরাং দক্ষিণব্যাপিমুক
্তালম্বীকচোচ্চয়াম্ ।
শবরূপমহাদেবহৃদয়োপরি
সংস্থিতাম্ ।
শিবাভির্ঘোররাবাভিশ্চচতুর্দিক্ষু
সমন্বিতাম্ ।
মহাকালেন চ সমং
বিপরীতরতাতুরাম্ ।।
সুখপ্রসন্নবদনাং
স্মেরাননসরোরুহাম্ ।
এবং সঞ্চিন্তয়েৎ কালীং
সর্বকাম- সমৃদ্ধিদাম্ ।।
অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে
মাতৃভক্ত সন্তোষ মহাশয় সেই
ব্রহ্মচারীর কালীপূজা দেখলেন ।
পূজান্তে দুই মাতৃ ভক্তের আলাপ
হল । ব্রহ্মচারী জানালেন এটি
শক্তিপীঠ। মহামায়া সতী দেবীর
ডান পায়ের চার আঙ্গুল এখানে
পতিত হয়েছিল । সেই থেকে
মহাদেবী কালিকার কথা ধীরে ধীরে
প্রচার হতে থাকে । মায়ের সেই
পীঠ এখনও আছে । তবে সেই বন
জঙ্গল, শেয়াল , সাপ , ‌ আলো
আঁধারির পরিবেশ সব উধাও ।
সেখানে এখন মহানগরী ।
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.