ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

দেবী যুগ্যাদা শক্তিপীঠ


No imageপশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায়
মঙ্গলকোট থানার অন্তর্গত
কৈচর রেলস্টেশনের কাছে এই
পীঠ অবস্থিত । ভগবান বিষ্ণুর
চক্রে খন্ডিত হয়ে মা সতী দেবীর
দক্ষিণ চরণের অঙ্গুষ্ঠ এখানে
পতিত হয়েছিল। দেবীর নাম
যুগ্যাদা আর ভৈরবের নাম হল
ক্ষীরখন্ডক । কবি ভারতচন্দ্র
তাঁর অন্নদামঙ্গল কাব্যে
লিখেছেন-
ক্ষীরগ্রামে ডানি পার অঙ্গুষ্ঠ
বৈভব ।
যুগ্যাদা দেবতা ক্ষীরখন্ডক ভৈরব
।।
দেবী যুগ্যাদ্যকে অনেকে পাতালে
পূজিত অহীরাবণ ও মহীরাবন
পূজিত ভদ্রকালী বলে থাকেন ।
অর্থাৎ সেই ভদ্রকালী বিগ্রহ
এখানে পূজিতা ।
ঘটনা এই রূপ- যে রাবনের প্রচুর
রাক্ষস বীর এমনকি মেঘনাদ কে
বধ করার পর বানর বাহিনী যথেষ্ট
আনন্দিত ছিলেন । বিভীষণ
জানতো মহীরাবন এখনও
জীবিত। সুতরাং রাবন এখন এই
অস্ত্র ব্যবহার করবে । মহীরাবন
প্রচণ্ড মায়াবী ছিল। বিভীষণ,
হনুমান কে সতর্ক করেছিলেন ।
এক রাতের ঘটনা । ভগবান রাম ও
লক্ষণ কুটীরে নিদ্রা যাচ্ছেন ।
হনুমান জী তার পুচ্ছ দিয়ে
কুটীরকে পেঁচিয়ে সুরক্ষিত করে
রেখেছেন । রাতের অন্ধকারে
মহীরাবন প্রথমে বিভীষনের রূপ
ধরে আসলো। বলল- “পবন
পুত্র। পুচ্ছ উন্মোচন করো।
আমি ভেতরে গিয়ে প্রভু রামের
সাথে কথা বলবো।” হনুমান বলল-
“যা কথা প্রভাতে, এখন প্রভু
বিশ্রাম নিচ্ছেন।” এরপর
মহীরাবন , সুগ্রীবের রূপে এসে
দ্বার খুলতে বলল। হনুমান
উন্মোচন করলেন না । অন্তিমে
মহীরাবন কৌশল্যা দেবীর রূপ
ধরে এসে বলল- “বাছা হনুমান।
দ্বার খোলো। আমি পুত্র রামের
সাথে দেখা করতে চাই।” হনুমান
বলল- “মাতা। যা কথা প্রভাতে ।
এই মুহূর্তে দ্বার আমি খুলতে
পারবো না।” উপায় না দেখে
মহীরাবন মায়া দ্বারা সুড়ঙ্গ খুঁড়ে
সেই পথে রাম লক্ষণ কে হরণ
করে পাতালে নিয়ে গেলো ।
উদ্দেশ্য ছিল রাম লক্ষণ কে বলি
দিয়ে ভদ্রকালীর পূজা করা ।
সকালে উঠে ভগবান রাম, লক্ষণ
কে দেখতে না পেয়ে সকলে
খোঁজাখুঁজি শুরু করলো। বিভীষন
হনুমান কে সব জানালো- যে কাল
রাত্রে নিশ্চয়ই মহীরাবন মায়া
দ্বারা নানা রূপে এসেছিল। কুটীরে
ঢুকে সুড়ঙ্গ দেখতে পেয়ে হনুমান
সেই পথে পাতাল পুরীতে গেলো।
যেখানে মহীরাবনের রাজ্য ।
সেখানে হনুমান বেশ কিছু রাক্ষস
দের বধ করলো । সেখানে বন্দী
রাম লক্ষণের সাথে হনুমান এক
ফন্দী আটলো । পূজাকালে
মহীরাবন রাম লক্ষণ কে বলল-
“মাকে অষ্টাঙ্গিক প্রনাম
জানাও।” রাম লক্ষণ বললেন-
“রাজার পুত্র আমরা। আমরা
কাউকে প্রনাম করি নি। সকলে
আমাদের প্রনাম করে। কি ভাবে
প্রনাম করে জানি না। তুমি শিখিয়ে
দাও।” মহীরাবন হাসতে হাসতে
বলল- “বেশ বেশ। এই ভাবে ।”
বলে মহীরাবন যেই মাটিতে মাথা
ঠুকে প্রনাম করছিল- হনুমান,
দেবীর খড়গ নিয়ে এক কোপে
মহীরাবনের শিরোচ্ছেদ করে, সেই
মুণ্ড দেবীকে নিবেদন করলেন। ।
এরপর অহীরাবন কে বধ করলো ।
তারপর এক স্কন্ধে রাম লক্ষণ
অপর স্কন্ধে দেবীর ইচ্ছায়
দেবীর সেই বিগ্রহ নিয়ে যুগ্যাদ্যা
শক্তিপীঠে এসে বিগ্রহ স্থাপন
করলেন। কিছুকাল পর ভগবান
রাম লঙ্কার বালুচরে এই
মহাদেবীর পূজা করেছিলেন যা
অকালবোধন নামে খ্যাত ।
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.