ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

কামাখ্যা শক্তিপীঠ ( নবম পর্ব )


No imageএই হল কামাখ্যার সংক্ষিপ্ত
কাহানী । কালিকাপুরানে আছে
দেবী এক সঙ্গে কামদা, কামিনী,
কামা, কামাঙ্গদায়িনী ও
কামাঙ্গনাশিনী হওয়ায় তিনি
কামাখ্যা নামে পরিচিতা ।
ব্রহ্মপুত্রের বিশাল জলরাশির
মধ্যে ভস্মাচল পর্বত অবস্থিত
। সেখানে দেবী কামাখ্যার ভৈরব
উমানন্দ শিব বিরাজিত । শাস্ত্র
মতে মা পার্বতী অর্থাৎ
উমাদেবীর আনন্দ বৃদ্ধির জন্য
ভগবান শিব এখানে উমানন্দ নাম
ধারন করে বিরাজ করছেন ।
কামরূপে ভীমশঙ্কর নামক একটি
জাগ্রত শিবলিঙ্গ দেখা যায় । ভীম
অসুরকে বধ ও নিজ ভক্তকে
রক্ষার জন্য ভগবান শিব এখানে
নিজেই প্রকট হয়েছিলেন ।
নীলাচল পর্বতে দশমহাবিদ্যার
মন্দির দেখা যায় । পূর্বে এই
দশমহাবিদ্যার স্থান গুলি খুব
দুর্গম ছিল- কেবল সাধু সন্ন্যাসী
রাই যেতে পেতে পারতেন।
বর্তমানে রাস্তা সংস্কার ও
যানবাহনের ব্যবস্থা থাকায়
সকলেই যেতে পারেন । দেবী
কামাখ্যার পঞ্চ মূর্তি ও
অষ্টযোগিনী আছে । পঞ্চ মূর্তি
হল- কামাখ্যা, কামেশ্বরী,
ত্রিপুরা, সারদা, মহোৎসহা ।
অষ্টযোগিনী রা হলেন-
কটীশ্বরী, গুপ্তকাশী, শ্রীকামা,
বিন্ধ্যবাসিনী, পাদদুর্গা,
দীর্ঘেশ্বরী, ধনস্থা ও প্রজটা ।
কামাখ্যা দেবীর ধামে প্রচুর
বলিদান হয় । বহুকাল আগে
এখানে মাকে নরবলি দ্বারা রুধির
দ্বারা পূজা করা হতো । কামাখ্যা
দেবীর স্তবে বলা হয়- “ছাগতুষ্টে
মহাভীমে কামাখ্যে সুরবন্দিতে ।”
দেবীকে ছাগ, মহিষ বলি দ্বারা
পূজা করা হয় । যাঁরা বলিদানে
ইচ্ছুক- তারা কামাখ্যা ধামে গিয়ে
পাণ্ডাদের সাথে যোগাযোগ
করবেন । অম্বুবাচীর সময় এখানে
বিশাল মেলা বসে। সেই সময়
প্রচুর ভক্ত এখানে আসেন ।
অসম সরকারের পক্ষ থেকে
বিনামূল্যে খাওয়ানো, চিকিৎসার ,
স্নানাদির ব্যবস্থা করা হয়ে
থাকে। বলা হয় অম্বুবাচীর সময়
অতিক্রান্ত হওয়ার পর যখন
মন্দিরের দ্বার উন্মোচন করা
হয়- তখন দেবী দর্শন অত্যন্ত
পুন্য জনক । দেবীর লাল কাপড়
পাণ্ডাদিগের সাথে যোগাযোগ
রাখলে তাঁরা কুরিয়্যার মারফৎ
আপনাকে পৌছে দেবে । যারা বলি
প্রথায় বিশ্বাসী নন- তারা মায়ের
দরবারে নারকেল উৎসর্গ করতে
পারেন । মন্দিরের বাইরে
একস্থানে নারকেল ফাটানোর
ব্যবস্থা আছে । এখানে পদ্ম
পুস্প খুব সস্তা । পূজা দেবার
সময় অবশ্যই পদ্ম পুস্প
কিনবেন। ভক্তি মনে মায়ের চরণে
অর্পণ করবেন ।
কামাখ্যা ধাম নিয়ে মানুষের মনে
প্রচুর কৌতূহল দেখা যায় ।
যাদুবিদ্যা, মারন, উচাটন,
বশীকরণ – ইত্যাদি এই স্থানকে
ঘীরে বহু আগে থেকে চলে আসছে
। সবই হয় গুপ্ত ভাবে । তবে যারা
শুদ্ধ ভক্ত- তারা এসব করতে নয়
– মাকে দর্শন করতেই আসেন ।
এমন বলা হয় এখনও দেবতারা
নানান দিব্য যানে রাত্রে দেবীকে
দর্শন করতে আসেন – অসম
বাসীদের এমন বিশ্বাস । দেবতারা
নানা স্তব স্তুতি করেন ব্রহ্মময়ী
আদিশক্তিকে । কামাখ্যা ধামে
দ্বিপ্রহরে প্রসাদ বিতরণ হয় ।
কামাখ্যা মন্দির গেলে সামান্য
দূরে অবস্থিত মা বগলার মন্দির
অবশ্যই দর্শন করবেন । আর
একটি নিয়ম উমানন্দ ভৈরব
অবশ্যই দেখবেন । জয় মা
কামাখ্যা । মা সবার মঙ্গল করুন

( সমাপ্ত। আগামী পর্বে থাকবে
যুগ্যাদা শক্তিপীঠ )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.