ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

কামাখ্যা শক্তিপীঠ ( অষ্টম পর্ব )


No imageকেন্দুকেলাই ঠাকুরের অনেক
ভক্তি। মা নিজে এসে ঠাকুরকে
দেখা দিতেন। ভোগ খেতেন।
আরতির সময় নাচতেন। দরজা
বন্ধ করে কেন্দুকেলাই ঠাকুর
মায়ের আরতি করতেন। বাইরে
ঢাক, দামামা, ঢোল, শঙ্খ, কাঁসর
, ভেরী , তুরী বাজতো। ভেতরে
ঠাকুর আরতি করতেন। কেউ বাঁধা
দিতো না। বাইরের লোক মাঝে
মাঝে কেবল ভেতর থেকে ভেসে
আসা নূপুরের ধ্বনি শুনতেন। কেউ
উঁকিঝুঁকি মারার দুঃসাহস দেখাতো
না। যারা সরল মনের ছিলেন তাঁরা
কেন্দুকেলাই ঠাকুরকে
খুবভালোবাসতেন । বিপদে
আপদে ঠাকুরের কাছে যেতেন।
ঠাকুরের কথা মা শুনতেন। অনেক
মৃতপ্রায় লোক মায়ের কৃপায়
সুস্থ ও আরোগ্য জীবন লাভ
করতো। আর কুটিল মানুষ
বিশেষত কিছু পুরোহিত আর রাজ
কর্মচারী কেন্দুকেলাই ঠাকুরকে
মোটেও সহ্য করতে পারতো না।
নানা অপবাদ দিতো। ভণ্ড বলে
গালাগালি করতো। একবার
ঠাকুরকে ‘চোর’ বদনাম দেওয়া
হয়েছিল। মায়ের কৃপায় ঠাকুর সেই
অপবাদ থেকে মুক্তি পান। তিনি
যে নির্দোষ – প্রমানিত হয়।
কালে কালে কোচ রাজাও
ঠাকুরের কিছুটা বিরোধী হয়ে
ওঠেন। কারন কুচক্রী পুরোহিত
আর রাজ কর্মচারীরা সমানে
ঠাকুরের নামে নানান কথা বানিয়ে
বানিয়ে রাজার কান ভরতে লাগলেন
। রাজা নরনারায়ণ কোনরূপ
সত্যতা যাচাই না করে সেই কুটিল
মানসিকতা সম্পন্ন লোকেদের
কথা বিশ্বাস করতে লাগলেন।
একদা নরনারায়ণ কামাখ্যা ধামে
গিয়ে ঠাকুর কেন্দুকেলাই কে
ডেকে জিজ্ঞেস করলেন-
“শুনলাম আপনি যখন আরতি
করেন, তখন নাকি মা নিজে এসে
আপনাকে দর্শন দান করেন। ইহা
কি সত্য ?” কেন্দুকেলাই ঠাকুর
জানালেন- “আজ্ঞে যথার্থ
শুনেছেন মহারাজ। কৃপাময়ী জননী
কৃপা করে আমাকে দর্শন দান
দিয়াছেন।” এই শুনে রাজা
নরনারায়ণ খুবুই খুশী হয়ে বললেন-
“আমিও দেখতে চাই মাকে।
আপনি যখন আরতি করবেন, তখন
আমি মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢুকে
মায়ের দিব্য রূপ দর্শন করবো।”
এই শুনে কেন্দুকেলাই ঠাকুর খুবুই
ভীত হয়ে বললেন- “সাবধান
মহারাজ। এভাবে ছলাকলার
আশ্রয় করে মায়ের দর্শন আপনি
পাবেন না। উল্টে আপনার ক্ষতি
হবে। আপনি মায়ের তপস্যা করুন।
ব্রহ্মময়ী জননী সন্তুষ্ট হলে
তিনি আপনাকে নিশ্চয়ই দর্শন
দান দিবেন।” এভাবে ঠাকুর
রাজাকে বুঝিয়ে চলে গেলো।
একদা সন্ধ্যা আরতিতে মগ্ন
ছিলেন কেন্দুকেলাই ঠাকুর।
মন্দিরের দ্বার বন্ধ। ভেতরে
ঠাকুর আরতি করছেন। বাইরে
নানান বাদ্য বাজছিল। রাজা
নরনারায়ণ ও অন্য এক কুটিল
পূজারী সেখানে চুপিচুপি এসে
উত্তর দিকের গবাক্ষ দিয়ে উকি
দিয়ে দেখতে লাগলেন। মহামায়া
কামাখ্যা দেবী সব জানতে
পারলেন। দেবী ভীষনা ক্রুদ্ধ হয়ে
বিকট আওয়াজে দিকবিদিক
প্রকম্পিত করে সেই কুটিল
পূজারীর মাথায় চপেটাঘাত করে
শাপ দিয়ে পাথরের মূর্তিতে
পরিণত করলেন। মা কামাখ্যা
নরনারায়ণ কে অভিশাপ দিয়ে
বলেন- “এই মুহূর্তে তোমাকে
নীলাচল পর্বত পরিত্যাগ করতে
হবে। তুমি কিংবা তোমার
বংশধরেরা যদি কখনো আমার
মন্দির বা নীলাচল পর্বতে আসে,
তবে সে নির্বংশ হবে।”
এই অভিশাপ পেয়ে রাজা
নরনারায়ণ রাজ্যে ফিরে গেলেন,
তার পর থেকে এখন অবধি কোচ
রাজার বংশধরেরা কোনদিন আর
নীলাচল পর্বতে যান না। দেবীর
মন্দির বা নীলাচল পর্বত দর্শন
করেন না । এরপর মন্দির সেবার
ভার পড়ে আহোম রাজ গনের
ওপর। একটা জিনিষ ভাবার বিষয়
রাজা নরনারায়ণের পূর্ব পুরুষ
রাজা বিশ্বসিংহ এই কামাখ্যা
মন্দির নির্মাণ করেন, রাজা
নরনারায়ণ এই মন্দির সংস্কার
করেন । কিন্তু মা তাঁদের এমন
শাপ কেন দিলেন ? বস্তুত মা পাপী
দের কোনদিন ক্ষমা করেন না।
সে মায়ের ভক্ত হোক না কেন ।
কেন্দুকেলাই ঠাকুরকে বারংবার
অপমান, সত্যতার যাচাই না করা-
মায়ের ভক্ত হলেও সে রেহাই পাই
নি। বস্তুত ভক্ত পাপাচারে লিপ্ত
হলে ভগবান তাকে বাঁচান না।
শুধরানোর সুযোগ দেন। যেমন মা
কামাখ্যা , কেন্দুকেলাই ঠাকুরের
মুখ দিয়ে রাজাকে সাবধান
করেছিলেন। রাজা শোনেনি।
কেন্দুকেলাই ঠাকুরের কথা শুনে
রাজা ছলাকলা ত্যাগ করে ভক্তি
মার্গ অবলম্বন করলে মায়ের
দিব্য দর্শন অবশ্যই পেতেন।
রাবন কে ভগবান শিব বাচান নি।
ঠিক জরাসন্ধ কে শিব বাঁচান নি।
নরক অসুর তার পিতা নারায়নের
হাতেই নিহত হয়েছিলেন। সুতরাং
ভক্ত যদি পাপাচার করে তার সাত
খুন মাফ- এমন ভাবার কোন
কারন নেই । ভগবানের চোখে
সবাই সমান ।
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.