ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

কামাখ্যা শক্তিপীঠ ( সপ্তম পর্ব )


No image১৫৩৪ খ্রীঃ রাজা বিশ্বসিংহের
মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর পুত্র
মল্লদেব ‘নরনারায়ণ’ নাম নিয়ে
কোচবিহারের রাজ সিংহাসনে
বসেন। রাজা নরনারায়ণ নিজ
ভ্রাতা শুক্লধ্বজ কে ‘চিলারায়’
নাম দিয়ে কোচ রাজ্যের সেনাপতি
পদে নিযুক্ত করেন । এরপর দুভাই
মিলে রাজ্যের সীমানা বৃদ্ধি করতে
উদ্যোগী হন। ১৫৪৬ খ্রীঃ তেনারা
আহোম রাজ খোরাকে পরাজিত
করেন। অপর দিকে তখন গৌড়
বঙ্গে ছিল নসরৎ শাহের পুত্র ফিরোজ শাহ তখন বাংলার শাসনকর্তা। ১৫৩৮ খ্রীঃ
শের খাঁ জোর করে গৌড় দখল
করে নেন। আহোম রাজ্যের সাথে
যখন কোচ রাজা নরনারায়ণ যুদ্ধে
মগ্ন তখন ১৫৫৩ খ্রীঃ
কালাপাহাড় কামরূপ আক্রমণ
করেন । দেশে রাজা নেই, ফলে
কালাপাহাড় বাধাহীন ভাবে একের
পর এক মন্দির, মূর্তি , দেবালয়
ধ্বংস করে এগিয়ে গেলো। এরপর
তার কোপ পড়লো কামাখ্যা
মন্দিরে। কালাপাহার কামাখ্যা
মন্দিরে উপরিভাগের অনেক
প্রাচীন মূর্তি ও স্থাপত্য ধ্বংস
করলেন। অন্যত্র যুদ্ধে ব্যস্ত
থাকায় কোচ রাজা নরনারায়ণ এই
আক্রমণ প্রতিহত করতে পারেন
নি। এখনও কামরূপে গেলে
কালাপাহারের হাতে ভাঙ্গচুর
হওয়া মূর্তির ধ্বংসাবশেষ দেখা
যায় ।
মহারাজ নরনারায়ণ ও চিলারায়
অনেক স্থান বিজয় করে রাজ্যে
এসে কালাপাহারের কীর্তি কলাপ
দেখে ক্রুদ্ধ হয়ে মুসলিম রাজ্য
গৌড় আক্রমণ করেন। যুদ্ধ
জয়ের আগে চিলারায় কামাখ্যা
মন্দিরে এসে ভগ্ন অবস্থা দেখে
মন্দির সংস্কারের জন্য
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন। কামাখ্যা
দেবীর কাছে যুদ্ধে জয়ের
আশীর্বাদ চাইলেন। এই সময়
তিনি মন্দিরের পুরোহিত
কেন্দুকেলাই ঠাকুরকে কোন
কারনে অপমান করে চলে যান।
কেন্দুকেলাই ঠাকুর খুব বড় মাপের
ভক্ত পূজারী ছিলেন। তিনি যখন
আরতি করতেন মা নিজে এসে
দেখা দিতেন, নৃত্য করতেন।
অপরদিকে চিলারায় বীর বিক্রমে
যুদ্ধ করে গৌড়ের বাদশা
সোলেমানের নিকট পরাজিত ও
বন্দী হলেন। একদা কারাবন্দী
চিলারায়কে মা কামাখ্যা স্বপ্নে
দেখা দিয়ে বললেন- “কাল নবাবের
মাকে সর্পে দংশন করবে, এতে
নবাব এর মাতার জীবন সংশয়
উপস্থিত হবে, আমার কৃপায় তুমি
তাকে বাঁচিয়ে তুলবে।” ঠিক তাই
হল। পরদিন নবাবের মাকে সাপে
কাটলো। কত ওঝা, বৈদ্য,
হাকিম, কবিরাজ ডাকা হল।
সকলের চেষ্টাই বিফল হল।
নবাবের মা জীবনের শেষ সীমানায়।
তখন চিলারায় জানালো, একবার
চেষ্টা করে দেখা যাক। চিলারায়
কে নবাবের মাতার সামনে নিয়ে
আসা হল। চিলা রায় কামাখ্যা
মায়ের কাছে প্রার্থনা জানালেন।
মা কামাখ্যা নবাবের মাকে সুস্থ
করে জীবন ফিরিয়ে দিলেন।
এর পর নবাব, চিলারায়ের কাছে
অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকট
করলেন। নবাবের মা চিলারায়কে
নিজ পুত্রের মতো স্নেহ
করলেন। নবাব সোলেমান,
চিলারায়ের সাথে ভাতৃত্ব সম্পর্ক
স্থাপন করে সসম্মানে মুক্তি
দিলেন। রাজ্যে ফিরে এসে কোচ
নৃপতি নরনারায়ণ আর চিলারায়
মিলে মন্দির সংস্কারে ব্রত
হলেন। ১৫৫৫-১৫৬৫ খ্রীঃ মধ্যে
মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়। শুভ
দিনে পূজার জন্য রাজা নরনারায়ণ
তাঁর পত্নী রানী ভানুমতী , আর
চিলারায় তাঁর পত্নী চন্দ্রপ্রভাকে
নিয়ে নীল পর্বতে গমন করলেন।
শাস্ত্র মতে পূজা সুসম্পন্ন হল।
প্রচুর দান করা হল। রাজা অনেক
জমি দেবীর সেবার জন্য দান
করলেন। সেবাইত দান করে তাঁদের
ভরণপোষণের ব্যবস্থা করলেন।
এছাড়া নিরাপত্তার জন্য বেশ
কিছু সেনা রেখে গেলেন ।
(চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.