ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

কামাখ্যা শক্তিপীঠ ( পঞ্চম পর্ব )


No imageনরকাসুর এর ঘটনা কামরূপের
আধ্যাত্মিক উপাখ্যানের সাথে
জড়িয়ে আছে । ভগবান নারায়ন
যখন বরাহ অবতার ধারন করেন
তখন ধরিত্রী দেবীর সাথে মিলনে
নরক অসুরের জন্ম হয়। নরক
প্রথমে সৎ উত্তম চরিত্রের
একজন ব্যাক্তি ছিল। সে সময়
কামরূপ কিরাত দের দ্বারা
পরিচালিত ছিল। রাজা ছিলেন
কিরাত রাজ ঘটক। ধরিত্রীর
আশীর্বাদে নরক কিরাত দের
যুদ্ধে পরাস্ত ও ঘটক কে বধ করে
নিজেই কামরূপের রাজা হন।
ভগবান বিষ্ণু, বিদর্ভ রাজ্যের
রাজকন্যা মায়ার সাথে, নরকের
বিবাহ দিয়ে কিছু আদেশ করেন
পুত্রকে। যথা-
মহাদেবীং মহামায়াং
জগম্মাতরম্বিকাম ।
কামাখ্যাং ত্বং বিনা পুত্র
নান্যদেবং যজিষ্যসি ।।
ইতোহন্যথা ত্বং বিহরণ্
হতপ্রানো ভবিষ্যসি ।
তস্মান্নরক যত্নেন সময়ং
প্রতিপালয় ।।
কালিকাপুরান ।। অষ্টত্রিংশ
অধ্যায় ।। ৪৪-১৪৫
অর্থাৎ- দ্বার প্রান্তে তোমার
পুত্র লাভ হইবে । ইতিমধ্যে
দেবতা ও ব্রাহ্মণ বিরোধী হইবে
না । এবং আসুরী প্রবৃত্তি
প্রদর্শন করিবে না। জগত মাতা
মহামায়া কামাখ্যা দেবী ছাড়া অন্য
কাহারও উপাসনা করিবে না,
অন্যথায় গতপ্রান হইবে ।
পুরান মতে নারায়নের নির্দেশ
পালন করে নরক অসুর সত্য,
ত্রেতা , দ্বাপর যুগ শাসন করল।
অপরদিকে শোনিতপুরের রাজা
বলি পুত্র বানের সাথে নরকের
বন্ধুত্ব হল। বান ছিল অসুর।
কথায় বলে ‘অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’
। তাই হল। কূট বানের সাথে মিশে
নরক অসৎ হল। কামাখ্যা পূজা
ত্যাগ করলো। ব্রাহ্মণ হত্যা
করতে লাগলো। স্বর্গ দখল করে
নিল। স্বর্গ হারা দেবতা গণ
প্রজাপতির কাছে নিজেদের
দুঃখের কথা বিবরণ করলে
প্রজাপতি জানালেন তোমরা
মহামায়ার বন্দনা করো। ভগবতী
দেবতাদের প্রার্থনায় সারা দিলেন
। কালিকাপুরান মতে একদিন
মহর্ষি বশিষ্ঠ কামাখ্যা দর্শনে
যাচ্ছিলেন । সে সময় নরক অসুর
তাকে বাঁধা দান করলেন । এতে
অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে বশিষ্ঠ
অভিশাপ দিলেন – ‘তুই যতদিন
জীবিত থাকবি, ততদিন জগত মাতা
কামাখ্যা দেবি সপরিবারে
অন্তর্ধান করুন।’ বশিষ্ঠের
অভিশাপে নরকের কাল সময়
নির্ধারিত হল। এরপর দেবী
মহামায়া কামাখ্যা মোহ বিস্তার
করে নরক অসুরকে ভ্রমিত
করলেন । ভগবান বিষ্ণু সৃষ্টি
রক্ষার্থে নিজ পুত্র নরক কে
সংহার করলেন । নরকের মৃত্যুর
পর তাঁর পুত্র ভগদত্ত কামরূপের
রাজা হন । ভগদত্তের বংশ লোপ
হলে কামরূপ রাজ্যের পরাক্রম
হ্রাস পায় । এর পর বিশ্বকর্মা
দ্বারা স্থাপিত মন্দির
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় । সেই
পবিত্র যোনি মুদ্রা কুন্ড গাছ
গাছালীতে ঢেকে যায়। পর্বতে
হিংস্র জন্তু দের আস্তানা হয়ে
ওঠে । স্থানীয় আদিবাসী গণ ঐ
জঙ্গলে ঢাকা কুন্ডে পশু পক্ষী
বলি দিয়ে পূজা করতো। গবাদি
পশু হারালে ঐ কুন্ডে দুগ্ধ দিয়ে
মানত করলে- মানত ফলে যেতো ।
এরপর বহু পড়ে কোচ বংশের
রাজা বিশ্ব সিংহ এই পীঠ উদ্ধার
ও মন্দির নির্মাণ করেন ।
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.