ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

কামাখ্যা শক্তিপীঠ ( তৃতীয় পর্ব )


No image

কামাখ্যা নাম কি ভাবে হল- তাঁর
একটি কাহানী পুরানে বর্ণিত ।
দেবী সতীর আত্মত্যাগের পর
তারক নামক এক অসুর ব্রহ্মার
কঠোর তপস্যা করে বর পেলো
কেবল শিবপুত্রের হাতে মরণ হয়।
চতুর অসুর জানতো ভগবান
শিবের পত্নীর দেহাবসান হয়েছে।
সুতরাং তাঁর পুত্র জন্মানো
অসম্ভব। এই অসুর দেবতাদের
পরাজিত করে স্বর্গ রাজ্য দখল
করে নিলো । পরাজিত দেবতা গন
প্রজাপতির নির্দেশে আদিশক্তির
স্তব স্তুতি করলে মা
আদ্যাশক্তি হিমালয় পত্নী
মেনকা দেবীর কন্যা পার্বতী রূপে
জন্ম গ্রহণ করলেন । তিনি যুবতী
হলেন। কিন্তু অনবরত তপস্যায়
মগ্ন আশুতোষ কিছুতেই দেবীর
দিকে দৃষ্টিপাত করেন না। কিভাবে
শিব পার্বতীর বিবাহ হবে- এই
নিয়ে দেবতারা চিন্তায় মগ্ন
হলেন। কামের দেবতা মদন কে
দায়িত্ব দেওয়া হল, কামবাণ
নিক্ষেপ করে মহাদেবের মনে
চাঞ্চল্য ও দেবীর প্রতি অনুরাগ
সৃষ্টি করতে হবে। মদন দেব
কামবাণ দেবাদিদেব কে নিক্ষেপ
করলেন, দেবাদিদেবের মনে কোন
চাঞ্চল্য সৃষ্টি হল না। মহাদেবের
রোষানলে কাম দেব ভস্ম হলেন ।
কাম পত্নী রতিদেবী স্বামী হারা
হয়ে নিদারুন শোকে ভগবান শিবের
চরণে পড়ে অনুতপ্ত হয়ে, ভুল
স্বীকার করে স্বামীর জীবন
ভিক্ষা চাইলেন । দেবাদিদেব
জানালেন দ্বাপর যুগে ভগবান
কৃষ্ণের পুত্র রূপে জন্ম নিয়ে
মদন পুনরায় দেহ ফিরে পাবে ।
শিব পার্বতীর বিবাহ হল। তাঁদের
পুত্র স্কন্দ তারকাসুরকে বধ
করলেন । অপরদিকে শিবাগ্নিতে
পুড়ে কামদেবের চেহারা বিকৃতি ও
কদাকার হয়েছিল। কামের চেহারা
বিকৃতি হলে নর নারীর জীবনে মধুর
অনুরাগ কিভাবে সৃষ্টি হবে? মদন
দেব ও রতি দেবী ভগবান শিবের
চরণে পড়লেন- তাঁকে পূর্ববৎ
চেহারা ফিরিয়ে দেবার জন্য ।
শিবশম্ভু দুইজনার স্তব স্তুতিতে
সন্তুষ্ট হয়ে বললেন- ‘নীল
পর্বতে গিয়ে জগত জননী মহামায়া
কামাখ্যার উপাসনা কর। দেবী
তুষ্টা হলে তুমি পূর্ব রূপ ফিরে
পাবে।’ ভোলানাথের কথায়
আশস্ত হয়ে কামদেব নীল পর্বতে
এসে আদিশক্তির স্তব স্তুতি
পূজা করলেন। একদা মহাদেবী
প্রসন্না হয়ে দর্শন দিলেন।
কামদেবের প্রার্থনা অনুযায়ী মা
তাঁকে তাঁর পূর্ব সৌন্দর্যময় রূপ
ফিরিয়ে দিলেন। এই স্থানে
কামদেব তাঁর পূর্ব রূপ ফিরে
পেয়েছিলেন বলে নীল পর্বতের
দেবী ধামের নাম কামরূপ ধাম। এর
পর স্বর্গের বিভিন্ন দেবতারা
এসে এই স্থানে দেবী কামাখ্যার
পূজা স্তব স্তুতি করলেন।
কামদেবের ইচ্ছায় দেবশিল্পী
বিশ্বকর্মা এই স্থানে একটি
মন্দির স্থাপন করলেন।
মহামায়ার মহামুদ্রার কাছেই
লক্ষ্মী সরস্বতী পীঠ এবং
উত্তরে তাম্রকুন্ড রয়েছে দেখে
বিশ্বকর্মা ঐ চারস্থানের ওপর
প্রস্তর দ্বারা অতি সুন্দর মন্দির
নির্মাণ করলেন। মন্দির গাত্রে
চৌষট্টি যোগিনী ও অষ্টাদশ
ভৈরবের মূর্তি নির্মাণ করলেন।
এই মন্দির আনন্দখ্যা মন্দির
নামেও খ্যাত।
প্রাচীন কামরূপ রাজ্যের নাম ছিল
ধর্মারণ্য । কামরূপ অনেক
প্রাচীন দেশ। এটা পুন্যভূমি
ভারতের ঈশান কোনে অবস্থিত।
রামায়ন, মহাভারত, তন্ত্র পুরানে
এই দেশের কথা উল্লেখ আছে।
মহাকবি কালিদাস , রঘু রাজার
দিগ্বিজয় ঘটনা তে কামরূপ
রাজ্যের কথা বলেছেন। কামরূপের
সীমা হল-
করতোয়াং সমাশ্রিতাং
যাবদ্দিকরবাসিনী ।
উত্তরস্যাংকঞ্জগিরিঃ
করতোয়াত্তু পশ্চিমে ।।
তীর্থশ্রেষ্ঠা দিক্ষুনদী
পূর্বাস্যাং গিরিকন্যকে ।
দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্রস্য লাক্ষায়াঃ
সঙ্গমাবধি ।।
কামরূপ ইতি খ্যাতঃ
সর্বশাস্ত্রেষু নিশ্চিতঃ ।
( যোগিনী তন্ত্র / একাদশ
পটল / ১৭-২১ )
পশ্চিমে করতোয়া অবধি দিক্কর
বাসিনী পর্যন্ত , উত্তরে কঞ্জ
গিরি, পূর্বে তীর্থ শ্রেষ্ঠা দিক্ষু
নদী এবং দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র ও
লাক্ষা নদীর সঙ্গম পর্যন্ত যে
ভূমি – তাহাই কামরূপের সীমা।
করতোয়া নদী পূর্বং
যাবদিক্করবাসিনীম্ ।
ত্রিংশদযোজনবিস্তীর্ণং
যোজনৈকশতায়তম্ ।।
ত্রিকোনং কৃষ্ণবর্ণঞ্চ
প্রভৃতাচলপুরিতম্ ।
নদীশতসমায়ূক্তং কামরূপ
প্রকীর্তিতম্ ।।
( কালিকাপুরান / একপঞ্চাশ
অধ্যায় / ৬৫-৬৬ )
পশ্চিমে করতোয়া নদী হইতে
পূর্বে দিক্কর বাসিনী পর্যন্ত,
এঁর পরিমাণ বিস্তারে ত্রিশ
যোজন ও দৈর্ঘ্যে একশত
যোজন। ইহার ত্রিকোন ,
কৃষ্ণবর্ণ, প্রভূত পর্বত
বেষ্টিত, এঁর চতুর্দিকে শত শত
নদী প্রবাহিত হইতেছে। এই
কামরূপের সীমানা।
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.