ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

ত্রিস্রোতা মা ভ্রামরী শক্তিপীঠ( তৃতীয় পর্ব )


No image

পূর্বে বলা হয়েছে মা ভ্রামরীর
ভৈরব হিসাবে অনেক পণ্ডিত
জল্পেশ বা জল্পেশেশ্বর শিবকে
মানেন । এটি খুব জাগ্রত শৈব পীঠ
। স্কন্দপুরানে এই শিবের ঘটনা
পাওয়া যায় । বহু পূর্বে জল্প
নামক এক রাজা ছিলেন । দেব
দ্বিজে ঈশ্বরে ভক্তিমান এই
রাজা প্রজাপালন করে রাজপাট
চালাচ্ছিলেন । রাজার ৫ পুত্র
ছিল। তাঁদের নাম সুবাহু,
শত্রুমর্দন, জয়, বিজয় ও
বিক্রান্ত । ধীরে ধীরে রাজা বৃদ্ধ
অবস্থায় পৌছালেন । যে কোন
সময় মৃত্যু দোরগোরায় এসে
উপস্থিত হতে পারে। পাঁচ পুত্রের
মধ্য থেকে কাকে পরবর্তী রাজা
বানাবেন- এই চিন্তা করতে
লাগলেন রাজা জল্প। কারন
একজনকে রাজা বানালে বাকী ৪
জন ক্ষিপ্ত হবে । এই ভেবে রাজা
নিজের রাজ্যকে ৫ ভাগে ভাগ
করলেন । সুবাহু পেলো পূর্বদেশ।
শত্রুমর্দন দক্ষিণ দেশ, জয়
পশ্চিম দেশ, বিজয় উত্তর ভাগ
পেলো আর বিক্রান্ত মধ্য ভাগ
প্রাপ্ত করলো । কিন্তু
বিক্রান্তের মনে কুভাবনা দেখা
গেলো । সে ভাবতে লাগলো বাকী
চার ভাইকে কিভাবে হত্যা করে
তাঁদের রাজ্য হাতানো যায় । এই
নিয়ে বিক্রান্ত মন্ত্রী দের সাথে
পরামর্শ করতে লাগলো ।
মন্ত্রীরা যুক্তি দিলো তামসিক
যজ্ঞ করার জন্য, যজ্ঞ থেকে
যক্ষিণী প্রকট হলে তাঁদের দিয়ে
চার ভাইকে হত্যা করাতে হবে ।
গুপ্তচর মারফৎ বাকী চার ভাই
কনিষ্ঠ বিক্রান্তের ষড়যন্ত্রের
কথা জানতে পারলো । বাকী
চারজন ও তান্ত্রিক দিয়ে
তামসিক যজ্ঞ আরম্ভ করলো ।
ফল হল এই পাঁচটি যজ্ঞ থেকে
পাঁচ যক্ষিণী বেরিয়ে পাঁচ ভাই,
মন্ত্রী, সেনাপতি, সেনা, অশ্ব,
পুরোহিত, চাকর বাকর সবাইকে
হত্যা করলো। নিজেরাই নিজেদের
মধ্যে বিবাদ করে মরল । রাজা
জল্প খুব দুঃখ পেলেন । কারন
তাঁর বংশপ্রদীপ নিজেরাই
নিজেদের নিভিয়ে দিয়েছে । রাজা
জল্প মহর্ষি বশিষ্ঠের শরণাপন্ন
হলেন । বশিষ্ঠ মুনি শিব আরাধনা
করবার বিধান দিলেন । রাজা জল্প
এখানে এসে শিব আরাধনা করলেন
। ভগবান শিব দর্শন দিলেন ।
বললেন- “রাজা জল্প। তোমার
তপস্যায় আমি তুষ্ট।
মনোবাঞ্ছা ব্যক্ত করো।”
রাজা জল্প বললেন -“প্রভু
আমার কিছুই তেমন আশা নেই।
আপনার দিব্য রূপ দর্শন করে
আমার সকল ক্লেশ নষ্ট হয়েছে।
শুধু এই বর দিন আমার নাম
অনুসারে আপনি এখানে বিরাজ
করুন।” ভগবান মহেশ্বর বললেন-
“তথাস্তু । আজ থেকে তুমি শিব
ভক্তদের মধ্যে চিরবন্দিত হবে।
তোমার নাম অনুসারে আমি
এখানে জল্পেশ্বর শিব রূপে
বিরাজ করবো ।” সেই থেকে
ভগবান শিব এখানে বিরাজ করতে
লাগলেন ।
ভূটান রাজার নির্মিত মন্দির
ধ্বংস হলে এই স্থান গোচারন
ক্ষেত্রে পরিণত হয় । স্থানীয়
রাজবংশী, মেচ জাতির লোকেদের
পালিত গাভীগুলি এই স্থানে এসে
আপনেই দুধ ক্ষরণ করতো ।
রাজবংশী, মেচ জাতির লোকেদের
কাছে এই স্থান পূজিত হতো ।
একদা কোচবিহারের রাজা
প্রাননারায়ন এই স্থানে শিকারে
আসেন। তিনি স্থানীয় এক
রাজবংশী লোকের কাছে সকল
বৃন্তান্ত শোনেন । কৌতূহল
বশত রাজা সেই স্থানে গিয়ে
ভগ্নস্তূপের ভেতরে শিবলিঙ্গের
দর্শন পান। এরপর দিল্লী থেকে
কারিগর আনিয়ে তিনি মন্দির
নির্মাণ করেন । মন্দিরে পাল
যুগের একটি বিষ্ণু মূর্তি আছে ।
মন্দির বানানোর সময় দেবী
সিদ্ধেশ্বরীর বিগ্রহ আবিস্কার
হয় । সম্ভবত ভূটান এর রাজা গন
এই দেবীর আরাধনা করতেন ।
শ্রাবন মাসে দূর দূর থেকে
ভক্তেরা বাঁকে জল নিয়ে এসে
এখানে বাবার মাথায় ঢালেন ।
এখানে বিশাল মেলা বসে। এই
মন্দিরের পূজার কাজ, ভোগ
রান্নার দায়িত্ব, সেবার ভার
রাজবংশী সম্প্রদায়ের লোকেরাই
করেন । এখানে আর একটি বহু
প্রাচীন শিব মন্দির আছে ।
সম্ভবত মুঘল রাজারা সেটি ধ্বংস
করেছিলেন । স্থানীয় লোকেদের
কাছে দেবী সিদ্ধেশ্বরী হলেন
শক্তিপীঠের দেবী মা ভ্রামরী ।
পুরোহিত দের মতে কোনো এক
সময় মন্দিরের কাছে ত্রিস্রোতা
তিস্তা বইত । ধীরে ধীরে তিস্তার
গতিমুখ পরিবর্তন হয়। তিস্তা
অন্য দিকে চলে যায় ।
ফটোতে দর্শন করুন জল্পেশ
মন্দির
( সমাপ্ত । আগামী পর্বে থাকবে
কামাখ্যা শক্তিপীঠ )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.