ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

ত্রিস্রোতা মা ভ্রামরী শক্তিপীঠ( দ্বিতীয় পর্ব )


No imageদেবীর মন্দির এখন পাকাপোক্ত
করা হয়েছে। মন্দিরের কাছে
একটি গাছ দ্বিধা বিভক্ত হয়ে
উপরে উঠেছে। মৌচাক আছে
তাতে। দেবী তো ভ্রমরের রূপ
ধরেছিলেন । মূল মন্দিরে দেবী
ভ্রামরীর বিগ্রহ। তিনি সিংহ
পৃষ্ঠে শায়িত মহেশ্বরের ওপরে
দণ্ডায়মানা । সেখানে দেবীর ঘট ও
অষ্টভুজা দেবী সিংহারূঢ়া চণ্ডী
মূর্তি আছে । সাথে বিশাল একটি
মহাদেবের মূর্তি আছে । তিনি
পদ্মাসীন । এছাড়া দেবীর বাম
চরণ আছে । কথিত আছে ১৩ রিং
কুয়ো খুঁড়ে স্বপ্নাদিষ্ট এই চরণ
প্রাপ্ত হয় । এই চরণ সব
হিন্দুরাই স্পর্শ করতে পারেন ।
তাছাড়া মন্দিরে মা লক্ষ্মী, শিবের
সতী স্কন্ধে প্রলয় নৃত্য মূর্তি
লিঙ্গ রূপ সদানন্দ ভৈরব আছে ।
বাইরে নাগদেবীর স্থান । মাঘী
পূর্ণিমার সময় গাছ তলায় কুমারী
পূজো হয় । ঢাক, ঢোল, উঁলু,
শঙ্খ, কাঁসরের আওয়াজে
চতুর্দিক ছেয়ে যায় । পুরোহিত
মন্ত্র পড়েন-
ওঁ বালরূপাঞ্চ ত্রৈলোক্যসুন্দর
ীং বরবর্ণিনীম্ ।
নানালঙ্কারভূষাঙ্গী ভদ্রবিদ্যা
প্রকাশিনীম্ ।।
চারূহাস্যং মহানন্দহৃদয়াং শুভদাং
শুভাম্ ।
ধ্যায়েৎ কুমারীং জননীং
পরমানন্দরূপিনীম্ ।।
কেউ কেউ আবার এই
শক্তিপীঠের সন্নিকটে অবস্থিত
ময়নাগুড়ি গ্রামের সিদ্ধেশ্বরী
দেবীকে শক্তিপীঠ মানেন । ভৈরব
হিসাবে ধরেন – জল্পেশ বা
জল্পেশেশ্বর শিবকে ।
জল্পেশেশ্বর শিবমন্দিরের পাশে
বয়ে চলছে জরদা নদী । হিমালয়
থেকে উৎপন্ন হয়েছে এই নদী ।
পৌরাণিক গাঁথা অনুসারে ভগবান
শিব হিমালয় দুহিতা দেবী গৌরীকে
বিবাহ করতে এসেছেন। এঁয়ো গন
মহাদেবকে স্নান করাচ্ছেন
পবিত্র বারি দ্বারা । সেই বারি
থেকেই এই নদীর সৃষ্টি হয় ।
কালিকাপুরানে এই নদী, এই দেবীর
উল্লেখ পাওয়া যায় । জল্পেশ
মন্দির বহু প্রাচীন মন্দির ।
মহারাজ জল্প এখানে শিব
আরাধনা করেছিলেন । তারপর
জঙ্গলে ছেয়ে যায় এই এলাকা ।
বাঘ, হাতী বিচরণ করতো এই
স্থানে । অনেক পড়ে
কোচবিহাড়ের রাজা প্রাননারায়ন
এই শিবলিঙ্গ উদ্ধার করে মন্দির
নির্মাণ করেন । তাঁর আগে
রাজবংশী ও মেচ জাতির লোকেরা
এই শিবকে অন্য গ্রহের দেবতা
ভেবে পূজো করতো ।
কালিকাপুরানে দেবী সিদ্ধেশ্বরীর
একটি ধ্যান মন্ত্র পাওয়া যায় ।
সেটি হল-
চতুর্ভুজা তু সা দেবী পীনোন্নত
পয়োধরা
সিন্দুর পুঞ্জসঙ্কাশং ধত্তে
কর্ত্রীঞ্চ খর্পরম্ ।
দক্ষিণে বামবাহুভ্যামভীত
ি বরদায়িনী
জটামণ্ডিত শীর্ষা চ রক্তপদ্ম
পরিস্থিতা ।।
দেবী এখানে সিঁদুর লেপিতা
জটাধারী এবং চতুর্ভুজা,
পীনোন্নত পয়োধরা । তিনি
জটাধারী ও রক্তপদ্ম পরিহিতা ও
খর্পর সংযুক্তা । এই দেবীকে
অনেকে ত্রিস্রোতা দেবীপীঠের
দেবী মানেন । ভৈরব হলেন
জল্পেশ । ঐতিহাসিক দের মতে
ভূটানের রাজা এই মন্দিরের
প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন । কিন্তু
বার বার ভূমিকম্পে এই মন্দির
ধ্বংস হলে সপ্তদশ শতাব্দীতে
কোচ সম্রাট প্রাননারায়ন এই
মন্দির নির্মাণ করেন । গবেষক
দের মতে এখানে শিবলিঙ্গ হল
জল লিঙ্গ। অর্থাৎ গর্তের
মধ্যে। সেটি আকাশ থেকে পতিত
উল্কা পিণ্ড । তাই রাজবংশী ও
মেচ জাতির লোকেরা প্রথমে
এঁকে অন্য গ্রহের দেবতা মনে
করে পূজা করতো । নীচের দেবী
মূর্তি টি মা ভ্রামরীর । দর্শন
করুন
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.