ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

ত্রিপুরেশ্বরী শক্তিপীঠ (তৃতীয় পর্ব)


No imageমন্দিরে ত্রিপুরী শৈলী কলার
উৎকৃষ্ট নিদর্শন দেখা যায় ।
মন্দিরের বেদীতে দুটি দেবী বিগ্রহ
দেখা যায় । একটি বড় অপরটি
ক্ষয়প্রাপ্ত ছোটো । বড়
প্রতিমাটি কষ্টি পাথরের দেবী
কালীর মূর্তি। উচ্চতায় প্রায় ৫
ফুট । চতুর্ভুজা, শব রূপ শিবের
ওপর দণ্ডায়মানা । তিনি পাশ,
মুণ্ড, অঙ্কুশ ও বর মুদ্রা ধারন
করে আছেন । দ্বিতীয় দেবী
বিগ্রহ টি উচ্চতায় ২ ফুট হবে।
ইনিও দণ্ডায়মানা, চতুর্ভুজা,
বস্ত্রে আচ্ছাদিতা । স্থানীয়
লোকেদের মতে ইনি আসল দেবী
ত্রিপুরেশ্বরীর বিগ্রহ । এই
বিগ্রহ যে প্রাচীন- বোঝাই যায়।
স্থানীয় লোকেরা এঁনাকে “ছোটি
মা” বলে ডাকেন । মন্দিরের
শীর্ষে চারচালার সংযোগ স্থলে
একটি প্রস্ফুটিত পদ্ম আছে।
পদ্মের বীজাধারে রয়েছে একটি
প্যাগোডা। এর উচ্চে রয়েছে
একটি বলয় । প্যাগোডার মাথায়
সাতটি কলসি আছে । এটি ধ্বজ ।
মন্দিরের উত্তর পূর্ব কোনে
কল্যাণসাগড় নামক এক জলাশয়
আছে । এটি ত্রিপুরার রাজা
কল্যাণমাণিক্য ১৬২৫-১৬৬০ এর
মধ্যে এই দিঘী নির্মাণ করেন ।
দেবী ত্রিপুরেশ্বরী হলেন
দশমহাবিদ্যার ষোড়োশী দেবী।
দেবীর পূজা তৃতীয় মহাবিদ্যা
ত্রিপুরাসুন্দরী দেবীর পূজার
নিয়মে হয়ে থাকে । দেবীর পূজায়
ছাগ বলির ব্যবস্থা আছে ।
আপনারা ছাগ বলি দিতে চাইলে
মন্দির কমিটির সাথে যোগাযোগ
করতে পারেন । তাঁরাই ব্যবস্থা
করে দেবেন । প্রথম পর্বে বলা
হয়েছিল রাজা ত্রিপুরা দেবীর
ভৈরবকে আনতে পারেন নি। তাই
তিনি ত্রিনেত্র শিবকে ভৈরব রূপে
প্রতিষ্ঠা করেন । শক্তিপীঠ
শক্তি দেবীর সাথে সাথে ভৈরব
মহাদেব ও বিরাজ করেন ।
ত্রিপুরার রাজ্যের হিন্দুদের মধ্যে
দুটি জনগোষ্ঠী দেখা যায় । একটি
উপজাতি হিন্দু অপরটি বাঙ্গালী
হিন্দু। দীর্ঘ কাল একত্রে থাকার
ফলে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে
সংস্কৃতির মেল বন্ধন হয় ।
আজও ত্রিপুরায় দুই জনগোষ্ঠী
ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে
একত্রে বসবাস করছেন ।
ত্রিপুরার কিছু তীর্থ স্থান হল-
কসবার জয়কালী মন্দির,
উদয়পুরের ভুবনেশ্বরী মন্দির,
কমলা সাগড়ের কালী মন্দির,
অমরপুরে মঙ্গলচণ্ডী মন্দির,
আগরতলার জগন্নাথ মন্দির,
আগরতলার শিব বাড়ী, আগরতলার
দুর্গা বাড়ী, আগরতলার উমা
মহেশ মন্দির। এছাড়া উনকোটি
নামক স্থানে পাহাড়ের গাত্রে
মহাদেব সহ বিভিন্ন খোদিত
মূর্তি পর্যটক দের বিস্মিত করে।
ঐতিহাসিক দের মত এইগুলো
অজন্তা- ইলোড়ার সমসাময়িক ।
কলকাতার গড়িয়ার কাছে বোরাল
জায়গার লোকজন দাবী করেন
সেখানেই আদি ত্রিপুরা পীঠ।
এখানে দেবীর অঙ্গুল হীন করতল
পতিত হয়েছিল। যদিও সকলে
ত্রিপুরাকেই মানেন । বোরাল
অঞ্চলের মন্দির টি কালীঘাট
মন্দিরের সমসাময়িক । কিছু
পণ্ডিত দের মতে মধ্যপ্রদেশের
জব্বলপুরে এই পীঠ রয়েছে বলে
মনে করেন । বোরালের দেবী
মন্দিরে দেবীর অষ্টধাতুর মূর্তি
আছে। তিনি শিবের নাভিপদ্মে
উপবিষ্টা । তবে যুগ যুগ ধরে
ত্রিপুরা রাজ্যকেই শক্তিপীঠ ধরা
হয় । আসুন আমরা মা ত্রিপুরার
স্তব করে বলি- “হে দেবী তুমি
ব্রহ্মবিদ্যা, তুমি ব্রহ্মজ্ঞান,
তুমি ভগবান বিষ্ণুর যোগনিদ্রা ।
হে দেবী তোমারই বৈষ্ণবী মায়ার
জগত আচ্ছাদিত, তুমি প্রসন্না
হলেই এই আচ্ছাদন নষ্ট হয় । হে
দানবনাশিনী তুমি জগতপতি হরির
পালিনী শক্তি, আবার তুমি
সংহাররূপিনী মহাকালী। তুমি
জগদ্ধাত্রী রূপে জগত ধারন করে
থাকো। কালান্তে তুমি প্রচণ্ডা
রূপে সর্ব কিছু সংহরন করো। হে
মহামায়া, হে জগৎজননী তুমি
সকলের মঙ্গল করো। তুমি
সকলের কল্যাণ করো। তুমি
সকলকে কৃপা করো।”
( সমাপ্ত । আগামী পর্বে থাকবে
মা ভ্রামরী শক্তিপীঠ )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.