ত্রিপুরেশ্বরী শক্তিপীঠ


No imageচলুন এবার ত্রিপুরার শক্তিপীঠ
সম্বন্ধে জানি । ত্রিপুরা খুব
প্রাচীন রাজ্য । এর ঐতিহাসিক
গুরুত্বও অনেক । বর্তমানে
ত্রিপুরা বলতে ভারতবর্ষের
ত্রিপুরা রাজ্যকে বোঝায় ।
অতীতে এই ত্রিপুরা রাজ্য বিশাল
ছিল। ভারতের প্রাচীন ইতিহাস
বলে ত্রিপুরা রাজ্য অবিভক্ত
ভারতবর্ষের বিশাল পরিধি এমন
কি বর্তমান বাংলাদেশের
কুমিল্লা, নোয়াখালি, পার্বত্য
চট্টগ্রামের একাংশ নিয়ে ছিল ।
ত্রিপুরাতে দেবীর দক্ষিণ চরণ
পতিত হয় । দেবীর নাম ত্রিপুরা
আর ভৈরবের নাম নল । শাস্ত্রে
লিখিত আছে
“ত্রিপুরায়ং দক্ষপাদো দেবতা
ত্রিপুরা নলঃ”।
ভারতচন্দ্র তাঁর অন্নদামঙ্গল
কাব্যে লিখেছেন-
দক্ষিণচরণখানি পড়ে ত্রিপুরায় ।
নল নামে ভৈরব ত্রিপুরা দেবী তায়
।।
তন্ত্রচূড়ামণি মতে দেবীর নাম
ত্রিপুরাসুন্দরী এবং ভৈরবের নাম
ত্রিপুরেশ । ত্রিপুরার রাজধানী
উদয়পুরে এই মন্দির অবস্থিত ।
গুয়াহাটি থেকে বাসে ৫৯৯ কিমি
গিয়ে ত্রিপুরার রাজধানী উদয়পুরে
নেমে ট্যাক্সিতে ৫৬ কিমি গেলে
এই মন্দির । ত্রিপুরাতে প্রচুর
বাঙ্গালী আছে । এখানে পরীক্ষা,
ভাষা, সংস্কৃতি বাংলা ভাষাতেই ।
ত্রিপুরা পার্বত্য উপত্যকা । এই
মন্দির উদ্ভবের পেছনে একটি
কাহানী আছে । মহাপীঠ
চন্দ্রনাথের অনতি দূরে এক
রজকের বাস ছিল। সেই রজকের
একটি দুধেলা গাভী ছিল । কিছুদিন
ধরে রজক লক্ষ্য করলো গাভীটি
আর আগের মতো দুধ দিচ্ছে না।
রজক ভাবল কেউ নিশ্চয়ই দুধ চুরি
করে । একদিন রজক গাভীটিকে
ঘাস খাওয়াতে ছেড়ে আড়ালে থেকে
দেখতে লাগলো- কে দুধ চুরি
করে? তারপর চোর ধরে রাজার
কাছে নালিশ জানাবে । রজক
দেখলো গাভীটি জঙ্গলে ঢুকল ।
রজক পিছু নিল। গাভীটি এক উচু
জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজে নিজে বাঁট
থেকে দুধ দিতে লাগলো। রজক
আশ্চর্য হয়ে সে স্থানে এসে
দেখলো সেখানে একটি দেবী
মূর্তি ও একটি সুন্দর শিবলিঙ্গ
আছে । রজক রাজাকে গিয়ে সব
জানালো ।
রাজা ধনমাণিক্য শুনে ভাবলেন
সেই শিবলিঙ্গ মন্দির বানিয়ে
স্থাপন করে নিত্য পূজোর
ব্যবস্থা করেন । এই ভেবে রাজা
লোক লস্কর নিয়ে শিবলিঙ্গ
তোলার অনেক চেষ্টা করলেন ।
কিন্তু বিফল হলেন। হাতি দিয়ে
টেনেও তুলতে পারলেন না । রাজা
ফিরে গেলেন রাজধানীতে দুঃখ মনে
। সে রাত্রে রাজা স্বপ্নে ভগবান
শঙ্করের দর্শন পেলেন । ভগবান
মহেশ জানালেন- “হে রাজন। তুমি
আমার সেই শিবলিঙ্গ কোনদিন
তুলতে পারবে না । তবে দেবীর
বিগ্রহ নিয়ে যেতে পারো। মনে
রেখো ভোর না হওয়া পর্যন্ত
তুমি যতটুকু যেতে পারবে-
সেখানেই দেবীর মন্দির স্থাপনা
করবে ।” স্বপ্ন ভঙ্গ হলে
মাঝরাতে রাজা দেবী মূর্তি নিয়ে
রওনা হলেন। উদয়পুরে আসতেই
সূর্য দেব আকাশে উদিত হলেন।
রাজা সেখানেই মন্দির স্থাপনা
করলেন । ১৫০১ খ্রীঃ দেবীর
মন্দির নির্মাণ করলেন ।
( চলবে )

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: