ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

চট্টগ্রাম ভবানী শক্তিপীঠ ( দ্বিতীয় পর্ব )


No imageচন্দ্রনাথ অনেক উচু পাহাড়ে
অবস্থিত। পূর্বে এস্থান খুব
দুর্গম ছিল। অরন্যে ঘেরা পাথরে
ভরা ছিল রাস্তা। বর্তমানে পাহাড়
কেটে সিঁড়ি তৈরি হয়েছে । পথ
তৈরি হয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস
চন্দ্রনাথ দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না। মোক্ষ লাভ বা
উদ্ধার হয় । ভগবান শিবের এক
নাম ভব। তিনি জীবের ভববন্ধন
মোচন করেন । ভগবান শিবকে
চন্দ্রনাথ, চন্দ্রধর, চন্দ্রভূষন,
চন্দ্রমৌলেশ্বর, বিধূভূষন,
শশিশেখর, শশিভূষণ নামে ডাকা
হয় । এর এক কাহানী আছে।
সংক্ষেপে হল ভগবান শিবের
জটায় অর্ধচন্দ্র থাকে ।
শিবপুরান মতে একদা দক্ষের
সাথে চন্দ্রদেবের বিরোধ বাধে।
দক্ষ রেগে চন্দ্রকে ক্ষয় রোগে
আক্রান্ত হবার অভিশাপ প্রদান
করেন । এই রোগ থেকে মুক্তির
উপায় কি? চন্দ্রদেব তখন
গুজরাটে সমুদ্র তীরে শিব
আরাধনা শুরু করলেন । ভগবান
শিব তাঁকে দর্শন দিলেন।
রোগমুক্ত করলেন আংশিক ভাবে
। সেই থেকে চন্দ্রদেব ভগবান
শিবের জটায় স্থান পেলেন । আর
গুজরাটে যেখানে চন্দ্রদেব পূজো
করেছিলেন- সেই স্থানে ভগবান
শিব সোমনাথ জ্যোতি লিঙ্গ
রূপে বিরাজ হলেন ।
এই স্থানে ভগবান চন্দ্রনাথ
কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেন- তারও
একটি কাহানী আছে । বেদব্যাস
ঋষি ব্যাসকাশীতে ভগবান শিবের
তপস্যা করছিলেন । দেবাদিদেব
বেদব্যাস কে দর্শন দিয়ে বললেন-
“ব্যাস। তুমি পৃথিবীর অগ্নি
কোনে চন্দ্রনাথ তীর্থে গিয়ে
আমার তপস্যা করো। অতি
সুন্দর সেই জায়গায় গুপ্ত ভাবে
দেবী সতীর অঙ্গ আছে । আমি
কলিকালে দেবী উমার সহিত সেই
পর্বতে বাস করবো। মনে রাখবে
সেই তীর্থে দেবতা, যক্ষ, রক্ষ,
প্রজাপতি ব্রহ্মা তপস্যা করে
সিদ্ধ হয়েছেন । সেখানে আমি
চন্দ্রশেখর লিঙ্গ রূপে বিরাজিত
।” ঋষি বেদব্যাস এই শুনে
চন্দ্রনাথে এসে তপস্যা আরম্ভ
করলেন। ভগবান চন্দ্রনাথ
তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দর্শন
দিলেন। ব্যাসকে বর চাইতে
বললেন । ব্যাস ঋষি বললেন- “হে
ভগবান। আমাকে বর যদি দিতে
হয়- এই বর দিন আপনি যেমন
কাশী ক্ষেত্রে যেমন ভাবে
আমাকে দর্শন দিয়েছিলেন, সেই
রূপেই এখানে অধিষ্ঠান করুন ।”
ভগবান শিব বললেন -“বেশ তাই
হবে।” এই বলে ভগবান শিব তাঁর
ত্রিশূল সেখানে মাটিতে গেঁথে
দিলেন । সেই ত্রিশূলের আঘাতে
একটি কুন্ড সৃষ্টি হল। এই
কুণ্ডের পশ্চিম ধারে ঋষি ব্যাস
পাষান দেহ ধারন করে ধ্যানমগ্ন
হলেন ।
সেই কুণ্ডের নাম হল ব্যাস কুণ্ড।
মহাদেব এখানে বেল বৃক্ষ আকারে
অধিষ্ঠিত হয়ে আছেন । এখানে
সীতা কুণ্ড ও ব্যাস কুণ্ডের পাশে
বাড়বানল ও কুমারী কুণ্ড নামে
দুটি কুণ্ড আছে । এই কুণ্ড গুলির
জল কেবল উষ্ণ নয়। এদের মধ্যে
বাড়বাগ্নি দেখতে পাওয়া যায়
বাড়বাগ্নি হল জলের মধ্যে
জলন্ত অগ্নিশিখা। বাড়বাগ্নির
মধ্যে পশ্চিম দিকের বাড়বাগ্নি
সদা প্রজ্জল্যমান । একেই দেবী
পীঠ বলা হয়। অনেকটা জালামুখী
পীঠের মতো । এখানে
চন্দ্রশেখর ছাড়াও স্বয়ম্ভু নাথ
ও বিরূপাক্ষ শিবের থান আছে ।
এই স্থান বৌদ্ধ দেরও কাছে
জনপ্রিয় । কথিত আছে ভগবান
বুদ্ধের তিরোধানের পর তাঁর
মহাপবিত্র পূতদেহ এই স্থানে
প্রোথিত করা হয়েছিল। এখনও
বৌদ্ধ গন তাঁদের প্রিয় জনের
অস্থি এনে এই বুদ্ধকূপে নিপতিত
করেন । ভারতীয়রা এই পীঠে যেতে
চাইলে ভিসা পার্স পোর্ট করে
কলকাতার বিধান নগর থেকে বাসে
ঢাকা যাবেন। সেখান থেকে বাস বা
ট্রেনে চট্টগ্রাম যাওয়া যায় ।
স্বাধীনতা ও দেশ ভাগের আগে
অসম এর গুয়াহাটি থেকে লামডিং
বদর পুর দিয়ে সোজা চন্দ্রনাথ
যাওয়া যেতো ট্রেনে। এই রেল
পথ এখন বন্ধ । চট্টগ্রাম খুব
সুন্দর জায়গা । আসুন মা ভবানী
কে প্রনাম জানাই ।
( সমাপ্ত। আগামী পর্বে থাকবে
ত্রিপুরার ত্রিপুরেশ্বরী
শক্তিপীঠ

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.