ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

চট্টগ্রাম ভবানী শক্তিপীঠ


No imageদেবীর চৌদ্দ তম পীঠ হল
চট্টগ্রাম বা চিটাগাঙ্গের ভবানী
শক্তিপীঠ । এখানে দেবীর ডান
হাত পতিত হয়েছিল। দেবীর নাম
ভবানী আর ভৈরব হলেন
চন্দ্রশেখর । চিটাগাং যে শক্তি
সাধনার পীঠ- এই তীর্থই তার
প্রমান । কারন শক্তিপীঠকে
কেন্দ্র করেই সাধনা হয় ।
পীঠনির্ণয়তন্ত্র মতে –
চট্টলে দক্ষবাহুর্মে ভৈরব
চন্দ্রশেখরঃ
ব্যক্ত রূপা ভগবতী ভবানী যত্র
দেবতা ।।
কবি ভারতচন্দ্রের রচনার সাথেও
মিল পাওয়া যায় । তিনি লেখেছেন-
চট্টগ্রামে ডানহস্ত অর্ধঅনুভব,
ভবানী দেবতা চন্দ্রশেখর ভৈরব
।।
অবশ্য জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের
অভিধান মতে সতী দেবীর ডান বাহু
বক্রেশ্বরে পতিত হয়েছিল। তবে
তান্ত্রিক ও সাধক রা চিটাগাং
কেই মূল সতী পীঠ ধরেন । বস্তুত
পূর্বে তন্ত্র সাধনার জন্য এই
স্থান বিখ্যাত হলেও বারবার
সনাতন ধর্মের উপর আঘাত
আসার ফলে তন্ত্র সাধনা ক্রমে
লুপ্ত হতে বসেছে এই স্থান থেকে
। এই স্থান উৎপত্তির পেছনে
কিছু মত শোনা যায় ।
ত্রেতা যুগে ভগবান রাম পিতার
আদেশে ১৪ বছরের জন্য বনবাসে
গেছেন । লক্ষণ ভাই ও
রামচন্দ্রের সহধর্মিণী মা জানকী
দেবীও সাথে গেছেন। একদা তারা
শরভঙ্গ মুনির আশ্রমে আসলেন
।শরভঙ্গ মুনি তাঁদের সাথে এক
দিব্য ঋষির সাক্ষাৎ করালেন ।
সেই দিব্য ঋষি বললেন- “হে রাম।
আপনি স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু।
রাক্ষস বাহিনীর হাত থেকে
আমাদের রক্ষা করতেই আপনি
মর্তে অবতার গ্রহণ করেছেন ।
আপনার পত্নী সাক্ষাৎ যোগমায়া
স্বরূপা মা লক্ষ্মী। তিনি
দেবতাদের আরাধিতা ।পূর্ব
ভারতের চন্দ্রশেখর পর্বতে
চন্দ্রনাথ শিব অবস্থান করছেন।
আপনাদের সেখানে নিয়ে যাবো।”
মা সীতা হলেন হরিপ্রিয়া মা
কমলা। ব্রহ্মযামলে আদ্যা স্তবে
লিখিত আছে ‘বামস্য জানকী ত্বং
হি রাবন ধ্বংসকারিণী’। মা সীতা
দেবী সেই মহামায়ার স্বরূপ
মহালক্ষী । তিনি রাবনের মৃত্যুর
মুখ্য কারন হয়েছিলেন । কারন
রাক্ষস বাহিনী ও রাবনের বিনাশের
জন্য একটি কারন দরকার ছিল।
তাই সীতা দেবীকে রাবণ চুরি
করেছিলেন। মা লক্ষ্মী কালরূপা
হয়ে লঙ্কার বিনাশের জন্য
গেছিলেন। নচেৎ ব্রহ্মময়ী মা
লক্ষ্মীকে অপহরণ করার শক্তি
কারোর নেই ।
যাই হোক রামচন্দ্র সেই পর্বতে
এসে ভার্গব মুনির সাথে কথা
বলছিলেন । সেই সময় মা সীতা
দেবী একাকী সেখানে সীতাকুণ্ডের
জলে নামলেন। সাথে সাথে তাঁর
পরিবর্তন হল। তিনি
অষ্টাদশভুজা ত্রিনেত্র ধারিনী ,
মেঘ বর্ণা, ধ্বজ ছত্র ধারন
করলেন । অপরদিকে সীতা
দেবীকে দেখতে না পেয়ে ভগবান
রাম খুঁজতে লাগলেন। কুণ্ডে এসে
মা সীতা দেবীর সেই রূপ দেখে
ভগবান রাম অবাক হলেন। তিনি
সেই কুণ্ডকে অভিশাপ দিলেন- যে
কলিযুগে চার হাজার বছর পর্যন্ত
প্রকাশিত হয়ে এই কুণ্ড অদৃশ্য
হবে। এই ঘটনার পর সীতা দেবী
স্বাভাবিক রূপে প্রকট হয়ে
আসলেন। তৎপর সকলে মিলে
চন্দ্রনাথ শিব দর্শন করতে
গেলেন। বর্তমানে এই কুণ্ডের
আর অস্তিত্ব নেই ।
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.