ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

উজ্জয়নী মঙ্গলচণ্ডী শক্তিপীঠ( তৃতীয় পর্ব )


No imageদেবী হরসিদ্ধির মন্দির দর্শন
করে অপূর্ব শান্তি লাভ হয় ।
দেবীর নামের এক মাহাত্ম্য
আছে। মহাকাল জ্যোতি লিঙ্গের
মন্দিরের অদূরে ‘রুদ্রসাগর’
নামক এক জলাধার আছে। এই
জলাধারের তীরে দেবী হরসিদ্ধির
মন্দির । স্কন্দপুরানে আমরা এই
তীর্থের বিবরণ পাই । সেই কাহানী
হল- এক সময় হর আর মা গৌরী
কৈলাসে বসে দ্যুত ক্রীড়া বা পাশা
খেলছিলেন । সেই সময় চণ্ড ও
প্রচণ্ড নামক দুই দৈত্য সেখানে
এসে উপস্থিত হল। এই দুই দৈত্য
মার্কণ্ড পুরানের অসুর রাজ
শুম্ভ নিশুম্ভের সেনাপতি চণ্ড ও
মুন্ড কিনা- সেই বিষয়ে পরিষ্কার
ভাবে বলা নেই । তবে পুরান গুলিতে
এক অসুরের নাম দুবার করে
করেও পাওয়া যায় । এই চণ্ড ও
প্রচণ্ড হয়তো অন্য অসুর ।
সেই অসুর দ্বয় এসে ভগবান শিব
আর মা পার্বতীর খেলাতে উপদ্রব
সৃষ্টি করতে লাগলো । ভগবান
শিব এতে বিরক্ত হয়ে উঠলেন।
অপরদিকে মা পার্বতী দেখলেন
ভগবান শিব খেলায় অমনোযোগী
। দুই অসুরের উৎপাতে যত
গণ্ডগোলের সৃষ্টি। এতে মা
পার্বতী ভয়ানক ক্ষিপ্ত হলেন।
তাঁর মধ্যের রুদ্রানী স্বরূপ জেগে
উঠলো । মা পার্বতী অন্নপূর্ণা
আবার তিনি অসুর নাশিনী মহাকালী
। তখন মা গৌরী পাশে থাকা
একটি মুগুর তুলে চণ্ড ও
প্রচণ্ডকে প্রহার করে বধ
করলেন । ভগবান ত্রিপুরারি তখন
হেসে বললেন- “হে দেবী। তুমি
আজ আমার প্রীতির জন্য এই দুই
দানবকে বিনাশ করে আমার
মনোরঞ্জন করলে। আজ থেকে
তোমার এক নাম হবে হরসিদ্ধি।”
বলা হয় এই পীঠ দর্শন করলে
মানবের অভীষ্ট ফললাভ হয় ।
‘হরসিদ্ধি’ চার অক্ষর নাম জপ
করলেই মানবের দারিদ্র ও শত্রু
ভয় নষ্ট হয় ।
শিবপুরানে এমন একটি ঘটনা আছে
। সৃষ্টির আদিতে শিব ও শক্তি
কৈলাশে খেলা করছিলেন। সে
সময় ব্রহ্মার বরে বলীয়ান দুই
অসুর এসে কৈলাসে উপদ্রব
আরম্ভ করলে শিব ও শক্তি
অর্ধনারীশ্বর রূপে প্রকট হয়ে
সেই দুই অসুরকে বধ করেন । যিনি
পরমাপ্রকৃতি তিনি সময়ে সময়ে
দানব বিনাশে আবির্ভূতা হন ।
উজ্জয়নীতে একটি মান মন্দির
আর্যাবতের ঋষিরা স্থাপন
করেছিলেন। বহু কাল আগেই
গ্রীসের পণ্ডিত গন এখানে
জ্যোতির্বিদ্যা শিখতে আসতেন।
বিধর্মী দের আক্রমণে সেই মান
মন্দির এখন ধূলিসাৎ । দেবী
হরসিদ্ধি মন্দির ছোটো হলেও
বেশ সুন্দর । মায়ের মুখটি অপূর্ব
লাবন্যে মমতায় ভরা। ভ্রু ও নয়ন
দুটি টানা টানা । দেবীর পিছনে
ভগবান বিষ্ণু ও ভগবান শিবের
ফটো আছে । শিপ্রা নদীর তীরে
শ্মশানে একটি কালী মন্দির আছে
। এমন শোনা যায় এখানে মহাকবি
কালিদাস পূজা করতেন । দেবী
এখানে মহাকালী । উগ্রচণ্ডী রূপা

পূর্বে বলেছি কেউ কেউ
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের
মঙ্গলকোট এর মঙ্গলচণ্ডী
দেবীকেই শক্তিপীঠ মানেন । এই
গ্রামের পূর্ব নাম ছিল উজানী।
কুব্জিকা তন্ত্রে ওড্ডিয়ান
মঙ্গলকোষ্ঠ এর কথা উল্লেখ
আছে। অনেকে তাই মঙ্গলকোট
কেই শক্তিপীঠ ধরেন । এখানে
চণ্ডী মূর্তির পেছনে বজ্রাসন
ভগবান বুদ্ধের মূর্তি আছে ।
এখানে চণ্ডী মূর্তি হলেন মহিষ
মর্দিনী । পদতলে সিংহ । পাশেই
শিবলিঙ্গ । যাঁকে দেবীর ভৈরব ধরা
হয় । আসুন মহাদেবী হরসিদ্ধি
মাতাকে প্রনাম জানাই । মায়ের
কাছে প্রার্থনা করি- মাগো অশুভ
শক্তির নাশ করো। অসুর দলন
করে সন্তান কে রক্ষা করো।
রোগ অসুখ বিসুখ থেকে মুক্ত
করে দীর্ঘায়ু প্রদান করো । শত্রু
ভয়, অগ্নি ভয়, চৌর্য ভয়, ভূত
প্রেতাদি ভয়, গ্রহ ভয় থেকে
মুক্ত করো ।
( সমাপ্ত। আগামী পর্বে থাকবে
চট্টগ্রাম শক্তিপীঠ )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.