ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

গণ্ডকী চণ্ডী শক্তিপীঠ ( দ্বিতীয় পর্ব )


No image

গণ্ডকী নদীর উৎপত্তি স্থলকেই
এই পীঠ ধরা হয় । গণ্ডকী নদীও
মহাপবিত্র নদী । বলা হয় এই
নদীতে অবগাহন করলে শরীর মন
পবিত্র হয় । এই নদীর উৎপত্তি
নিয়ে বরাহ পুরানে একটি কাহানীর
বিবরণ আছে । ভগবান বিষ্ণু
ত্রিলোকের মঙ্গল কামনায়
এখানে কঠোর তপস্যা করেন ।
অতি উগ্র তপস্যার ফলে ভগবান
হরির গণ্ড দেশ থেকে স্বেদ বিন্দু
ঝরতে থাকে। সেই স্বেদ বিন্দু
থেকেই পরম পবিত্র পাপ হারিনী
গণ্ডকী নদীর সৃষ্টি হয় । এখানে
অনেকে শালগ্রাম শিলা খুঁজেন।
যাদের ওপর ভগবান হরি কৃপা
করেন- তাঁরা হরির সান্নিধ্য লাভ
করেন । হরি সেই পরম ভক্তদের
সহিত তাঁদের নিবাসে এসে
শালগ্রাম রূপে পূজা গ্রহণ করেন।
শালগ্রাম শিলার প্রান প্রতিষ্ঠা
বা বিসর্জন হয় না । বিষ্ণু
মূর্তিতে যেমন প্রান প্রতিষ্ঠা
করতে হয়- আবার পূজা শেষে
বিসর্জন দিতে হয়, শালগ্রামে
তেমন বিধান নেই । সাধু সন্ন্যাসী
রাও অনেক সময় ভক্তদের
শালগ্রাম প্রদান করে থাকেন ।
তবে তা বুঝে। কেন কি কিছু
শালগ্রাম গৃহস্থ দের পূজা
নিষেধ। কেবল ব্রহ্মচারী দের
আরাধ্য ।
এখানে নীলকণ্ঠ হ্রদ আছে ।
স্কন্দপুরানে এই হ্রদের সৃষ্টির
একটি কাহানী আছে । একদা মা
পার্বতী এখানে জয়া বিজয়াকে
নিয়ে স্নানে এসেছিলেন । স্নান
সাড়ার পর তিনি জয়া বিজয়াকে
এই হ্রদের কাহানী বলতে লাগলেন
। কাহানী এইরূপ যে, দেবতা ও
অসুর রা মিলে ক্ষীর সাগড় মন্থন
করেছিলেন । সাগর থেকে ভয়ানক
বিষের পাত্র বেরিয়ে আসলো।
সেই বিষের তীব্রতা এমন যে
চারপাশে বিষাক্ত আবহাওয়া,
অগ্নি শিখায় জ্বলতে লাগলো ।
কিন্তু এখন উপায় কি? ভগবান
বিষ্ণু তো কূর্ম অবতার নিয়ে
মন্দার কে ধারন করেছেন।
প্রজাপতি ব্রহ্মার পক্ষে এই
বিষ দূর করার উপায় ছিল না। তাই
বিপদ থেকে বাঁচতে সকলে বাবা
ভোলানাথের শরণাপন্ন হলেন ।
ভগবান তারকনাথ সকলকে অভয়
দিয়ে নিমিষে বিষ পান করলেন ।
বিষ পানের পর ভগবান শিবের
অসহ্য জ্বালা শুরু হলে তিনি এই
কুণ্ডে স্নান করে সেই জ্বালা দূর
করেন। সেই থেকে এই হ্রদের নাম
নীলকণ্ঠ হ্রদ । একে
গোসাইকুন্ড নামেও ডাকা হয় ।
তন্ত্রে আবার বলে মা তারা
দেবাদিদেব কে শিশু বানিয়ে স্তন্য
পান করিয়েছিলেন, বিষের জ্বালা
দূর করতে । এখানে তিনি শিবের ও
মাতৃরূপা । এর মধ্যে তত্ত্ব কথা
আছে । মা তারা হলেন ভগবান
শিবের অর্ধাঙ্গিনী । কিন্তু কেন
মাতৃরূপা হলেন ? স্ত্রী বা নারী
জাতির মধ্যে তিন রূপ দেখা যায়।
যখন সে সন্তানের লালন পালন
করে- সে মাতৃ রূপা, আবার যখন
স্বামী ও শ্বশুর কূলকে রান্না
করে পরিবেশন করেন তখন তিনি
অন্নপূর্ণা রূপা। আবার স্বামীর
সাথে যখন শয়ন করেন তখন তিনি
কামিনী রূপা । আবার সেই স্বামীর
অসুখ বিসুখে সেবা করেন, তখন
তিনি মাতৃ রূপা। যেমন মা তার
সন্তান কে লালন পালন করেন ।
মূল প্রসঙ্গে আসি। ভগবান শিব
বিষ পান করেছিলেন। এর মধ্যেও
তত্ত্ব কথা আছে। সংসারের
ত্রিতাপ জ্বালা বিষ সেই শম্ভুই
তো হরণ করেন । তাই শিব
ভক্তের অন্তরের সকল বিষ হরণ
করেন সেই নীলকণ্ঠ শিব ।
গণ্ডকী চণ্ডীর মন্দির পাহাড়ের
ওপর। মন্দিরের পাঁচিলে ১০৮
পিতলের নানান জন্তুর মুখ
বসানো আছে । প্রতিটিড় মুখ
থেকে বারিধারা পড়ছে। সেখানে
স্নান সেড়ে ভক্তেরা মন্দিরে
প্রবেশ করেন । মন্দিরে লামা
পূজারীরা পূজো করেন । এখানেই
দেবী চণ্ডীকার পূজা হয় । এই হল
গণ্ডকী চণ্ডীপীঠ । ভারত
নেপালের মধ্যে কিছু চুক্তি
স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতীয়
নাগরিক গন এখানে ভিসা পার্স
পোর্ট ছাড়াই যেতে পারেন । তবে
সেখান থেকে কিছু কিনে আনলে
ট্যাক্স দিতে হবে কাষ্টম কে ।
আসুন আমরা দেবী চণ্ডীকে
প্রনাম জানাই । মায়ের কাছে
প্রার্থনা করি তিনি যেমন
অধার্মিক মহিষাসুরকে বধ করে
দেবতাদের শান্তি এনে দিয়েছিলেন,
আমাদের জীবন থেকেও যেনো
সেরূপ নানান অমঙ্গল, বিপদ কে
নাশ করেন । জয় মা চণ্ডী ।
( সমাপ্ত। আগামী পর্বে থাকবে
বহুলা শক্তিপীঠ )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.