ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

গণ্ডকী চণ্ডী শক্তিপীঠ


No image

পীঠনির্ণয়তন্ত্র মতে একাদশ
শক্তিপীঠ হল দেবী গণ্ডকী চণ্ডী
। এই পীঠ নেপালে। ভগবান
বুদ্ধের জন্মস্থান সেই নেপাল।
আবার ভিন্ন মতে হরিদ্বারে
একটি চণ্ডী মন্দির দেখা যায়।
কেউ কেউ সেই ক্ষেত্র কে চণ্ডী
দেবী বলেন । এখানে দেবী সতীর
গণ্ড দেশ পতিত হয়েছিল। দেবীর
নাম গণ্ডকী চণ্ডী, ভৈরব হলেন
চক্রপাণি । ভারতচন্দ্রের মতে
ভগবান বিষ্ণুর চক্রে খণ্ডিত হয়ে
দেবীর ডান গণ্ড এখানে পতিত
হয়েছিল । কারোর মতে বিহারের
বক্তিয়ারপুরে এই পীঠ। তান্ত্রিক
দের মতে নেপালের মুক্তিনাথে এই
পীঠ অবস্থিত। পীঠ গবেষক দের
মতে গণ্ডকী নদীর উৎপত্তি
স্থলেই এই পীঠ । এখানে
শালগ্রাম শিলা পাওয়া যায় ।
ভারতচন্দ্র লিখেছেন-
গণ্ডকীতে ডানি গণ্ড পড়ে চক্র
ঘায় ।
চক্রপাণি ভৈরব, গণ্ডকী চণ্ডী
চায় ।।
চণ্ডী দেবীর কথা আমরা
‘দেবীমাহাত্ম্যম্’ – এ পাই ।
সেখানে বলা আছে দানবরাজ
মহিষাসুরের হাতে পরাজিত
দেবতাগণ প্রজাপতি ব্রহ্মার
সহিত শিবলোকে গমন করেন।
সেখানে উপস্থিত হরি আর হরের
কাছে সবিনয়ে দুঃখের কথা নিবেদন
করেন । ত্রিদেব ও দেবতাদের
তেজে এক দিব্য নারীর আবির্ভাব
হয় । দেবতারা অলংকার,
যুদ্ধাস্ত্র, বসন, চূড়া, মাল্য
দ্বারা সেই নারীকে সজ্জিত করেন
। বাহন রূপে প্রদান করা হয়
পশুরাজ সিংহকে । সেই দেবী
হলেন চণ্ডী । প্রবল
পরাক্রমশালী মহিষাসুরের
সেনাপতি ছিলেন চামড়, চিখুর,
মহাহনু, বিড়ালাক্ষ, উদগ্র ,
অসিলোমা নামক অজেয় বীর
অসুর গন । তাছারাও ছিল চতুরঙ্গ
সেনা, অশ্ব, হস্তী , রথ । সকলে
মিলে দেবীর সহিত যুদ্ধ করতে
আসলে দেবী সকল দানব সেনাপতি
দের নাশ করেন। দেবীর বাহন
মহিষের সেনাদের ধ্বংস করে।
অন্তিমে মহিষাসুর সসৈন্যে দেবীর
হাতে নিহত হন । এই দেবীকে
মহিষমর্দিনী দেবী চণ্ডী নামে
পূজা করা হয় । পুনরায় এই দেবী
শুম্ভ নিশুম্ভ নামক দৈত্য দের বধ
করবার জন্য ভগবতী পার্বতীর
কোষ থেকে প্রকট হয়েছিলেন ।
মধ্যযুগে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম
“চণ্ডীমঙ্গল” কাব্য রচনা করেন
। সেখানে চণ্ডী দেবীর নানান
লীলার কথা জানা যায় । পূর্ব
ভারতের গ্রামে গঞ্জে চণ্ডী
দেবীর পূজা দেখা যায় ।
মঙ্গলচণ্ডী পূজা, বিপদনাশিনী
চণ্ডীর পূজা দেখা যায় । ‘চন্ডী’
শব্দ মুণ্ডারী শব্দ ‘চান্ডি’ থেকেই
এসেছে। আদিম জনগোষ্ঠীর
লোকেরা শিলাখণ্ডে এই দেবীর
পূজা করতেন । ছোটনাগপুরের
ওঁরাও জনজাতির মধ্যে এই দেবীর
পূজা দেখা যায় । ইনি প্রসন্ন হলে
যুদ্ধ ও পশুশিকারে সফল হওয়া
যায় । আমরা দেখেছি যুদ্ধে বিজয়
প্রাপ্তির জন্য ভগবান রামচন্দ্র
এই চণ্ডী দেবীর অকালবোধন
করেছিলেন , অর্জুন এই দেবীর
স্তব স্তুতি করে আশীর্বাদ নিয়ে
যুদ্ধ যাত্রা করেছিলেন, রাজা
সুরথ যবন রাজাদের হাত থেকে
নিজ রাজ্য উদ্ধার করার জন্য
এই দেবীর পূজা করেছিলেন ।
সুতরাং চণ্ডীদেবীর পূজো বহুকাল
আগে থেকেই প্রচলিত ।
বর্তমানে আমরা হিন্দু বাঙ্গালী
গন মঙ্গলচণ্ডী, বিপদত্তারিনী,
সঙ্কটনাশিনী ইত্যাদি রূপে দেবী
চণ্ডীকার আরাধনা করে থাকি ।
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.