ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

বিরজা শক্তিপীঠ( চতুর্থ পর্ব )


No image

উৎকল বাসী তান্ত্রিক দের মতে
দেবী বিমলা চতুর্ভুজা, পূর্বমুখী,
চাঁদ বদনী, শুভ্র বর্ণা। ইনি শ্বেত
বস্ত্র ও শ্বেত অলঙ্কার ধারন
করে থাকেন। উপরের দুই হাতে
অমৃত কুম্ভ ও নাগকন্যা ধারন
করে থাকেন । নীচের দুই হাতে
অক্ষ মালা ও অভয়মুদ্রা থাকে।
অমৃত কুম্ভ হল সাধনার ফলের
প্রতীক, অথবা দেবী সকলকে
অমৃতধারা সিঞ্চন করেন, তার
প্রতীক। নাগ কুণ্ডলিনী শক্তির
প্রতীক। অক্ষ মালা জপের
সাধনার প্রতীক । দেবী নরাসনে
উপবিষ্টা। দেবীর ত্রিনয়ন স্বর্ণ
দিয়ে মোড়া। দেবীর দুপাশে দুটি
সখী মূর্তি দেখা যায়। তাঁদের নাম
ছায়া আর মায়া । চারটি ধাপে
মন্দির নির্মিত । ওড়িশা বৈষ্ণব
তীর্থ হলেও এখানকার স্থাপত্য
শিল্প এখান কার তন্ত্রের
বৈশিষ্ট্য বহন করে।
বলা হয় এখানে ভগবান বিষ্ণু
ভোগ গ্রহণ করেন। তাই এখানে
ভগবান জগন্নাথের সেবায় ৫৬
ভোগ প্রদান করা হয় ।
জগন্নাথের সেবায় মিষ্টান্ন
জাতীয় দ্রব্য আবশ্যক। তেঁতো
বস্তু, কাঁচা পেঁপে ভগবান
জগন্নাথের নাপসন্দ । জগন্নাথ
মন্দির ভারতবর্ষের অতি প্রাচীন
মন্দির। পুরীর সমুদ্র থেকে
স্বল্প দূরে অবস্থিত এই মন্দির
দেখে বিস্ময় হতে হয় । এখানাকার
স্থাপত্য শিল্প এতই সুন্দর।
পূর্বে সমুদ্র তট থেকেই জগন্নাথ
মন্দিরের চূড়া দেখা যেতো- কিন্তু
বর্তমানে অনেক ধর্মশালা,
হোটেল, লজ, বাড়িঘর হয়ে
যাওয়াতে দেখা যায় না । ১১০০
খ্রীঃ রাজা অনন্তদেব বর্মণ এই
মন্দির নির্মাণ করেন । বলা হয়
দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা নিজে
জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা
দেবীর মূর্তি প্রস্তুত করেন । এই
মন্দিরে প্রান প্রতিষ্ঠা ও মন্দির
প্রতিষ্ঠা করেন স্বয়ং প্রজাপতি
ব্রহ্মা।
পণ্ডিত দের ধারনা জগন্নাথের
মহাবেদী লক্ষ শালগ্রাম শিলা
দ্বারা নির্মিত। এবং এই বেদীতে
ত্রিপুরাসুন্দরী দেবীর যন্ত্র গুপ্ত
ভাবে রাখা আছে । বৈষ্ণব ও
শাক্তের মিলনের এই পীঠ
জগন্নাথ ধাম। বৈষ্ণব দর্শন করে
কৃষ্ণ রূপে। আর শাক্তের কাছে
তিনি ভৈরব । যে যেমন ভাবে ঈশ্বর
কে চায়- সে তেমন ভাবে পায় ।
বাৎসল্যের ভক্তিতে কৌশল্যা,
যশোদা দেবী চেয়েছিলেন- তাই
পেয়েছিলেন। সখ্য রূপে গুহক
চণ্ডাল, সুগ্রীব, অর্জুন, সুদামা
ভগবান কে লাভ করেছিলেন।
আবার শত্রু রূপে চেয়েছিলেন
রাবন, কংস, হিরন্যক্ষ,
হিরণ্যকশিপু প্রভৃতি দানব গন।
স্বয়ং জগন্নাথ ই তাঁদের বধ
করতে ধরাধামে এসেছেন। তাই
জগন্নাথ ও মা বিমলার লীলা পীঠে
সকলকেই আসতে হয় । পদ্ম
পুরানে আছে ইন্দ্র দেবতা নিজ
মুখে মা লক্ষ্মীকে স্তব করে
‘পরমব্রহ্মময়ী’ বলেছেন। সত্যই
তো। মা বিমলা পরম ব্রহ্মময়ী ।
অন্তিমে পদ্মপুরানের সেই
শ্লোক আমরা উল্লেখ করে মা
বিমলার চরণে বন্দনা করি-
পদ্মাসনস্থিতে দেবি
পরব্রহ্মস্বরূপিনী ।
পরমেশি জগন্মাতর্মহালক্
ষ্মীর্ণোহস্তু তে ।।
( সমাপ্ত । আগামী পর্বে থাকবে
গণ্ডকী চণ্ডী শক্তিপীঠ )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.