ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

বিরজা শক্তিপীঠ( প্রথম পর্ব )


soktipith10বিরজা পীঠ ভারতবর্ষের শ্রীক্ষেত্র অর্থাৎ উড়িষ্যায় পুরীধামে অবস্থিত । উড়িষ্যা রাজ্য খুব প্রাচীন । প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে এই রাজ্যের নাম পাওয়া যায় । এই উড়িষ্যা রাজ্য শ্রীক্ষেত্র, পুরুষোত্তম ধাম, নীলাচল, ঔড্রদেশ নামে পরিচিত ছিল । জগন্নাথ দেব হলেন স্বয়ং বৈকুন্ঠের অধিপতি ভগবান বিষ্ণু । পূর্বে তিনি নীলমাধব রূপে শবর দের দ্বারা পূজিত ছিলেন । বিদ্যাপতি এই নীলমাধব এর প্রথম সন্ধান পান। এমন শোনা যায় ভগবান নিজে রাখাল বেশে এসে বিদ্যাপতিকে পথ চিনিয়ে নিয়ে গেছিলেন। সেই বৃন্দাবন চন্দ্র রাখালরাজা, বিদ্যাপতির সহায় ছিলেন । যে কথা বলছিলাম। ওড়িশার সভ্যতা বহু পুরানো । গজপতি নৃপতি গন এখানে রাজত্ব করতেন । ওড়িশা হিন্দু রাজ্য ছিল। সেজন্য সুলতান, মোঘল বাদশা গন এই রাজ্য বারংবার আক্রমণ করেছিলেন । দুর্ভাগ্য বশত দক্ষিণের রাষ্ট্রকূট, চালুক্যের হিন্দু রাজারা ওড়িশার রাজাদের কোন রকম সাহায্য করেন নি। ফলে বাদশা ও যবন সেপাই গন ওড়িশাকে পরাজিত করে অবাধে লুটপাট চালাতেন। বহুবার জগন্নাথ মন্দিরে হামলা ও লুটপাট হয় । সুলতানী সম্রাট সিকন্দর শাহ নিজের উদ্যোগে মন্দিরের কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলেন, লুটপাট চালান । কিছু ঐতিহাসিক দের মতে ওড়িশায় ব্যাপক বর্ণ প্রথার শোষোনের ফলে নিম্ন জাতির হিন্দুরা গোপোনীয় পথ গুলি সুলতানী বাদশা দের বলে দিত । মা লক্ষ্মী ভগবতীর একটি রূপ । তিনি হরিপ্রিয়া, আবার তিনি ধন জনে ভক্তদের কৃপা করেন । জগন্নাথ দেব হলেন সেই শ্রীহরি। সুতরাং যেখানে হরি থাকবেন সেখানে হরিপ্রিয়া দেবী কমলাও থাকবেন । মা বিরজা হল সেই দেবী কমলা । এখানে দেবীর ভৈরব হলেন জগন্নাথ । আশ্চর্য লাগছে যে ভগবান বিষ্ণু কিভাবে ভৈরব হলেন ? ভৈরব তো ভগবান শিব হন । উত্তর পাওয়া যাবে হরিভক্তিবিলাসে । সেখানে স্পষ্ট ভাষায় গোস্বামী গন শাস্ত্র উদ্ধৃতি তুলে ধরে দেখিয়েছেন- “হরি আর হর এক। যাঁরা হরি আর হরে বিভেদ দেখেন তারা ঘোর নরকে নিপতিত হয়ে যাতনা ভোগ করেন । যে বিষ্ণু ভক্ত বা যে শিব ভক্ত হরি আর হরে বিভেদ করেন- তাঁদের ওপর হরি বা হর কে প্রসন্ন হন না।” সুতরাং সেই দিক থেকে জগন্নাথ দেব ভৈরব। আর একটা বিষয় এখানে বিরজা পীঠে শতাব্দী কাল থেকে বলি হয় । অনেক বৈষ্ণব হয়তো হায় হায় করবেন যে বিষ্ণু দরবারে বলি! তাঁদের উত্তর – প্রতি পূজার জন্য শাস্ত্রে কিছু নিয়ম আছে । সেই নিয়ম মেনে শাস্ত্র মেনে পূজা করাই উচিৎ । যেমন রক্ত চন্দন, জবা, রুদ্রাক্ষ দ্বারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা হয় না, তেমনি তুলসী মালা, তিলক, সাদা পুস্প দ্বারা মা কালীর পূজো হয় না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, মা কালী এনারা এক। পুরুষ রূপ আর শক্তি রূপ। কিন্তু রূপ হিসাবে পূজার বিধান শাস্ত্র প্রনেতা বেদব্যাস মুনি বহু আগে লিখে গেছেন । আর দ্বিতীয় কথা ভগবান মহাপ্রভুর ভক্ত ছিলেন রাজা প্রতাপরুদ্র । যিনি মহাপ্রভুর আদেশকে জগন্নাথের ইচ্ছা মেনে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন । মহাপ্রভু চাইলে বহু আগে রাজাকে দিয়ে বলি বন্ধ করাতে পারতেন । কিন্তু শাস্ত্র নিয়মকে উনি বদলান নি, ভাঙ্গেন নি। কারন ভগবান কোনদিন শাস্ত্র নিয়ম ভাঙ্গেন না। সুতরাং বলি নিয়ে আর কারো আপত্তি থাকা উচিৎ না। ভাগবতে বলি নিষেধ বলে ব্যাস মুনি লিখেছেন। মার্কণ্ড পুরানে, দেবী ভাগবতে, কালিকাপুরানে সেই ব্যাস মুনি বলির কথা লেখেছেন। সুতরাং বলি দেবো কি বন্ধ করবো, সেটা আমাদের ওপর। এর জন্য পুরান কে আনা ঠিক নয়।
( এই পীঠ বড়। পর্বে পর্বে চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.