ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

মানস সরোবর শক্তিপীঠ ( প্রথম পর্ব )


No image

পুরানে আছে মা সতীর ডান হাত মানস সরোবরে পতিত হয়েছিল। দেবীর নাম দাক্ষায়ণী আর ভৈরবের নাম হর । মানস সরোবর কিভাবে সৃষ্টি হল- এই নিয়ে পুরানে একটি ঘটনার বিবরণ দেওয়া আছে । স্কন্দপুরানে এই ঘটনা পাওয়া যায় । এক সময় পদ্মযোনি ব্রহ্মা নিজের মনে মনে ভাবলেন তিনি এমন একটি সরোবর নির্মাণ করবেন- যাতে অবগাহন মাত্রই তম, রজ গুন পার করে সত্ত্ব গুনে অধিষ্ঠিত হওয়া আছে । প্রজাপতি এমনই ভাবছিলেন । পবিত্র হিমালয় খুব দুর্গম। সাধু, সন্ত দের তপস্যা ভূমি। প্রাচীন কাল থেকেই ঈশ্বর প্রাপ্তির জন্য এখানে কত সাধু সন্ত তপস্যা করেছেন, এখনও করছেন । কুম্ভমেলায় যেসব সাধু সন্ত আসেন – তাঁদের মধ্যে কিছু সাধু সন্ত এই হিমালয়েই তপস্যা তে নিমগ্ন থাকেন। এই সাধু সন্ত দের দর্শন লাভ অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার। তাই কুম্ভ মেলায় গিয়ে সাধু সন্ত দের দর্শন ও আশীর্বাদ লাভ করতে হয় । প্রজাপতি ভাবা মাত্রই হিমালয় শিখরে ত্রিশ যোজন পরিধির এক হ্রদ নির্মাণ করলেন। তিনি তাতে জল পূর্ণ করলেন । মন থেকে যা উৎপন্ন হয় তাকে ‘মানস’ বলে। যেহেতু পরমপিতা মনে মনে এই হ্রদ তৈরীর কল্পনা করেছিলেন তাই এই হ্রদের নামে ‘মানস সরোবর’ । প্রাচীন কালে এই স্থান দুর্গম হলেও বর্তমানে যানবাহনের যাতায়াতের ফলে এই স্থানে এখন অনেকেই যান । এই দেবীর ভৈরবের নাম অনেকের মতে অমর। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্য অনুসারে ভৈরবের নাম হর । পীঠনির্ণয়তন্ত্র বলে- মানসে দক্ষহস্তো যে দেবী দাক্ষায়ণী হর । অমরো ভৈরবস্ত্রত্র সর্বসিদ্ধি প্রদায়কঃ ।। ভ্রমণবিদ ভূপতি রঞ্জন দাসের মতে মানসে দেবীর বাম হস্ত পতিত হয়েছিল। ‘নামষ্টোত্তরশতম’ মতে “মানসে কুমুদা নামা বিশ্বকায়া তথাম্বরে” । এর মতে দেবীর নাম এখানে কুমুদা । চিন্তাহরণ চক্রবর্তী তাঁর ‘তন্ত্র কথা’ তে লিখেছেন- মানস সরোবরের দেবী হলেন ভীষনাকৃতি দেবী দশভুজা । আবার কিছু পণ্ডিত ব্যক্ত করেছেন এই পীঠ মানসে নয়, মালবে অবস্থিত । পীঠনির্ণয়তন্ত্র তন্ত্র তে একস্থানে মালবের নাম উল্লেখ আছে । এই সরোবরে আসলে মনোরম কৈলাশ শিখর দেখা যায় । বিশাল এক পর্বত চূড়া। যেনো শ্বেত চন্দন চর্চিত বিশাল একশিবলিঙ্গ । অপূর্ব মনোরম সেইদৃশ্য দেখে চোখ ফেরানো যায় না। কৈলাশ শিখর মাত্র ২২,০২৮ফুট। হিমালয়ে এর চেয়েওআরোও বড় চূড়া আছে।
( চলবে )

 

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.