ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

নেপাল মহামায়া শক্তিপীঠ ( দ্বিতীয় পর্ব )


No imageনেপালের বাগমতী নদীর তীরে মহা শ্মশানেই পশুপতি নাথের মন্দির । শ্মশান হল বৈরাগ্যভূমি ও তপস্যার ভূমি। তাই মহাযোগী বাবা ভোলানাথের প্রিয় স্থান । এই মন্দিরের আরতি দেখার মতো । কাঠমাণ্ডুর কাছে এই পীঠ।এক বিশাল অশথ্য গাছের তলায় জল পূর্ণ একটি ছোট্ট গর্ত আছে, সেই হল দেবী মহামায়া বা গুহ্যেশ্বরী দেবী । এই দেবীর প্রতিষ্ঠা সম্বন্ধে অনেকলোকগাথা শুনতে পাওয়া যায় । তাঁর মধ্যে একটি হল- উত্তর বিহারের তিরুহত নামক এক স্থানে এক নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ বাস করতেন । একদা তিনি নেপাল যাত্রা করেন । নেপালের রাজা প্রতাপমল্ল সেই ব্রাহ্মণ কে যথা উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করে রাজবাড়ীতে অতিথি সৎকার করেন । সেই ব্রাহ্মণের অসাধারন মেধা ও পাণ্ডিত্য জ্ঞানে রাজা মুগ্ধ হয়ে যান। রাজা সেই ব্রাহ্মণের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করলেন । সেই ব্রাহ্মণ জানতো রাজ্য সংলগ্ন বনেই কোথাও দেবীর অংশ আছে । একদা সেই ব্রাহ্মণ রাজাকে বললেন- “হে রাজন! আমার মনে হয় আপনার রাজ্য সংলগ্ন বনেই কোথাও দেবীর অংশ পতিত হয়েছে। শাস্ত্র বিচারে এই দাঁড়ায় । আপনি সত্বর সেই দেবীপীঠ উদ্ধার করে নিত্য পূজোর ব্যবস্থা করুন।” শুনে রাজা তাই করলেন। লোক লস্কর, পাইক- পেয়াদা লাগিয়ে বনে খুঁজতে খুঁজতে একটি কুণ্ড দেখতে পেলেন । আশ্চর্য ব্যাপার সেই কুণ্ড থেকে নানা প্রকার দিব্য জ্যোতির বিচ্ছুরন ঘটছিল । সকলেই বুঝলো এখানেই দেবী সতীর অংশ পতিত হয়েছে । রাজা প্রতাপ মল্ল সত্বর বন জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে পূজার ব্যবস্থা করলেন । বাগমতী নদীর তীরে আর্যঘাট মহাশ্মশান । অপড় পাড়ে দেবী গুহ্যেশ্বরী মন্দির । মন্দিরে কেবল হিন্দুরাই প্রবেশ করতে পারে । পশুপতি মন্দির থেকে গুহ্যেশ্বরী দেবীর মন্দির পর্যন্ত সুন্দর রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন নেপালের রাজ পৃথ্বীনারায়ন রাজার পুত্র জংবাহাদুর । মন্দিরের মাথায় শোভা পাচ্ছে ৪ টি পিতলের সর্প মূর্তি। সর্প কুণ্ডলিনী শক্তির প্রতীক। নেপালে যেহেতু তান্ত্রিক সাধনা হয়- তাই এখানে সাপকে পূজা করা হয় । মন্দির টি ত্রিকোন যন্ত্র আকারে নির্মিত। চারকোনা চাতালের মাঝে দেবীর পীঠ বা আসন । দেবীর মূর্তি নেই, সতী অংশ সোনায় ঢাকা। পবিত্র কুণ্ডের জল স্পর্শ করে মাথায় দেওয়া নিয়ম । পুরোহিত কে বললে তিনি সোনার আবরণ উন্মোচন করে দেবীর পীঠ দেখাবেন । রাতের অন্ধকারে এই শ্মশানে নানান প্রকার তান্ত্রিক সাধনা হয় । বহু অলৌকিক ঘটনা শুনতে পাওয়া যায় দেবীর পীঠ সম্বন্ধে । এখানে ১২ বছরের কুমারী বালিকাকে উলঙ্গ অবস্থায় দেবী রূপে তান্ত্রিক ও গুপ্ত পূজা করা হয় । মা কালী বসন হীনা । কারন মা কোন কিছুর বন্ধনে আবদ্ধ নন । তিনি দেশ কালের ঊর্ধ্বে । আবার বসন কামনা বাসনার প্রতীক রূপে কিছু পণ্ডিত গণ্য করেন। তাই শ্রীকৃষ্ণ গোপিনীদের বস্ত্র নিয়েছিলেন। অর্থাৎ মা কামনা বাসনার ঊর্ধ্বে । পশু ও পিশাচ জাতীয় পাপীরাই এই পূজাকে নিন্দা মন্দ করে । মা যখন সন্তান কে জন্ম দেন বা দুগ্ধ প্রদান করেন তখন মা বসন হীনা থাকেন । তেমনই মা কালী অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ড, জীব জগত কে প্রসব করেছেন। মাঠ ভরা খাবার দিয়ে লালন পালন করছেন, তাই মা বসন হীনা । নবরাত্রির শেষ দিনে এই গুপ্ত পূজা হয় । বালিকা কন্যা হল আদ্যাশক্তির রূপ । অনন্ত কোটি রূপা ব্রহ্মময়ীর লীলা কে বর্ণিতে পারে ? তিনি কৃপা করে যত টুকু ধরা দিয়েছেন আমরা তাই জানি । জয় জগৎমাতা । হে মাতঃ। সকলের কল্যাণ কর। সকলকে মোক্ষ প্রদান করো। এই প্রার্থনাই আমরা মায়ের চরণে নিবেদন করি ।
( সমাপ্ত । আগামী পর্বে থাকবে মানস সরোবর শক্তিপীঠ )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.