ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

ক্ষীরভবানী শক্তিপীঠ (দ্বিতীয় পর্ব )


No imageদেবী সতীর কণ্ঠদেশ এখানে পড়েছিল বলে বলা হয় । দেবীর নাম ভগবতী ভৈরবের নাম ত্রিসন্ধ্যেশ্বর । আবার কিছু পণ্ডিত দের মতে অমরনাথেই সতী অঙ্গ পতিত হয় । তন্ত্রে বলা হয়

“”কাশ্মীরে কণ্ঠদেশশ্চ ত্রিসন্ধ্যেশ্বর ভৈরবঃ। ”

এখানে যে স্থানে সতী দেবীর অঙ্গ পতিত হয়- সেই স্থান অজ্ঞাত । ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের সময় মুসলিম বাদশা সিকান্দার এই মন্দির চূর্ণ বিচূর্ণ করে মন্দির লুঠপাঠ করেন । মন্দির বিধস্ত করা হয় । কাশ্মীরের হিন্দু রাজা প্রায় ১৯১২ খ্রীঃ এই মন্দির নতুন করে নির্মাণ করেন । শ্রীনগর থেকে ১২ মাইল দূরে এই মা ভবানীর মন্দির । বাসে ঘণ্টা খানেক এর ওপর সময়
লাগে মন্দির পৌছাতে । মন্দির চত্বর বেশ বড় । পাশ দিয়ে একটি খাল গিয়ে ঝিলাম নদীতে মিশেছে । কাশ্মীর কে ভূস্বর্গ বলা হয় ।
এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এত সুন্দর যেনো অমরাবতী ধরিত্রীর বুকে নেমে এসেছে । মিষ্ট আপেলের গাছ চারদিকে । লাল
লাল থোকায় সুমিষ্ট আপেল তাতে ঝুলে আছে । যারা আপেল খেতে ভালোবাসেন- তারা কাশ্মিরে গেলে মন শান্তি করে খেয়ে আসবেন । মন্দিরের ভিতরে একটা ত্রিকোন কুণ্ড আছে । তাঁর মাঝখানে একটি নবনির্মিত ছোট্ট মন্দির দেখা যায়। পূর্বে
ত্রিকোণ কুণ্ডটিই মাতৃ জ্ঞানে পূজিতা হতো । নতুন মন্দিরে দেবীর একটি মূর্তি দেখা যায়। ভক্তরা পূজার দ্রব্য সেই কুণ্ডে নিবেদন করেন। কুন্ডের সামনে একটা ছোট্ট নাট মন্দির আছে। সন্ন্যাসীরা সেখানে বসে ধ্যান জপ, পূজা পাঠ করেন । তবে এই সতী পীঠের যথার্থ স্থান নিয়ে মতভেদ আছে। এখানে অপর একটি শক্তিপীঠ দেখা যায়। সেটা হল শারদাপীঠ ।
অপর শারদাপীঠকেউ অনেকে আসল দেবী পীঠ বলেন । তাঁদের মতে মহামায়া সতী দেবীর কণ্ঠনালী এখানেই পতিত হয়েছিল। তবে এখানে দেবী হলেন মহামায়া আর ভৈরব হলেন ত্রিনেত্রশ্বর । বলা হয় স্বামীজি এই ক্ষীর ভবানী পীঠে এসে গো
দুগ্ধ দ্বারা মায়ের পূজো করেছিলেন ।এই পীঠে এসে তিনি মায়ের দিব্য আদেশ শুনতে পেয়েছিলেন । কিছু তন্ত্র মতে কাশ্মীরের শক্তিপীঠের দেবীর নাম ভগবতী, ভৈরবের নাম অমরনাথ বলা হয়েছে । কুব্জিকা তন্ত্র ও কাশ্মীরের কবি কলহনের রচনায় শারদা পীঠের নাম পাওয়া যায় । এই পীঠ খুব দুর্গম স্থানে। মহাভারত ও কিছু পুরান মতে মহর্ষি পুলস্ত এই শারদা পীঠে বসে তপস্যায়
সিদ্ধিলাভ করেন । এই পীঠে চতুস্কোন সিঁদুর মাখানো একটি শিলাকে সতী অঙ্গ ধরে পূজা পাঠ করা হয় । আমরা ভগবতী ভবানী
মায়ের কাছে প্রার্থনা জানাই –

“হে মাতঃ। হে সিদ্ধিদাত্রী। তুমি সর্বপ্রকার মঙ্গল করো। তোমার আশীষে যেনো এই জীবন ধন্য হয়।” জয় জয় মা ভবানী ।

( সমাপ্ত। আগামী পর্বে থাকবে জালন্ধর শক্তিপীঠ )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.