ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

ক্ষীরভবানী শক্তিপীঠ ( প্রথম পর্ব )


soktipithমায়ের একনাম ভবানী । মা ভববন্ধন মোচন করেন, মা ভবের জ্বালা নিবারন করেন তাই মায়ের নাম ভবানী। ভক্তকবি রামপ্রসাদ
সেন তাই গেঁয়েছেন- ‘মুক্ত কর মা মুক্তকেশী। ভবে যন্ত্রনা পাই দিবানিশি। কালের হাতে সঁপে দিয়ে মা, ভুলেছো কি রাজমহিষী।’ ভগবতী বিষ্ণুমায়ার জালে জীবগণ আবদ্ধ হয়- আবার সেই ভগবতীর কৃপায় বন্ধন মোচন হয় । এই প্রসঙ্গে মার্কণ্ড পুরান বলেছেন-

“তয়া বিসৃজ্যতে বিশ্বং জগদেতচ্চরাচরম্ ।
সৈষা প্রসন্না বরদা নৃণাং ভবতি মুক্তয়ে ।।”

এর অর্থ- সেই মহামায়া এই সমস্ত চরাচর জগৎ সৃষ্টি করেন। তিনি প্রসন্না হলে মানুষকে মুক্তিলাভের জন্য অভীষ্ট বর দান করেন ।
এবার পীঠ সংক্রান্ত বিষয়ে আসি। কাশ্মীরে দুটি শক্তিপীঠ দেখা যায় । দুটিকেই শক্তিপীঠ ধরা হয় । এঁনাদের ভৈরব হলেন- অম্বরনাথ যা আমরা অমরনাথ নামে চিনি । অমরনাথ হল তুষারলিঙ্গ। যা আপনে আপনেই তুষার দ্বারা নির্মিত হয় । দুর্গম
বরফে ঢাকা পর্বতে এই ভৈরব মন্দির। এঁনাকে ‘বরফানি’ নামেও ডাকা হয় । অমরনাথ সৃষ্টি হয়েছিল হর গৌরীর লীলার দ্বারা । বস্তুত মা পার্বতী হলেন আদিশক্তি ব্রহ্মময়ী । কিন্তু লীলাচ্ছলে তিনি অমরনাথ সৃষ্টি ও একটি দিব্য ঘটনার জন্ম দেবার
জন্য এমন লীলা করেছিলেন । একদা নারদ মুনি কৈলাশে এসেছেন । ভগবতী গিরিনন্দিনী কে প্রনাম জানিয়ে বললেন – ‘মা । ভগবান
শিবের কণ্ঠে যে মুণ্ডমালা শোভা পাচ্ছে, সেগুলি কার বলতেপারেন?’ ভগবতী শুনে বললেন-
“আমি তো জানি না।” নারদ মুনি  বললেন- “হে মাতঃ । ওগুলি পূর্বজন্মে যারা দেহ ধারন করেছিলেন তাদের করোটি । মা ভগবান শিব অমর হলেও, আপনি কিন্তু অমর নন । আপনাকে ভগবান শিব অমর করেন নি। ” এই শুনে ভগবতী গৌরী অভিমান করলেন। ভগবান শিবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করতে লাগলেন, কেন তিনি অমর করলেন না। এই শুনে মহাদেব হেসে বললেন- “ঠিক আছে মহাদেবী। আমি তোমাকে এক গুপ্ত স্থানে অমরত্ব হওয়ার দিব্য জ্ঞান দেবো। যা শ্রবন মাত্রই তুমি অমর হবে।” হর গৌরী তখুনি ভ্রমণে বের
হলেন। অমরনাথের দিব্য গুহায় ভগবান শিব দেবীকে ব্রহ্মজ্ঞান দিতে লাগলেন । সেই গুহাতে যেখানে ভগবান শিব বসেছিলেন,
সেখানে তাঁর ওপর বরফ পড়তে লাগলো। অপরদিকে এক রাজা
এক পাপের ফলে এক ঋষির দ্বারা শাপগ্রস্ত হয়ে সেখানে তোতাপাখী হয়ে বাস করছিল। সেই ঋষি বলেছিল- “যেদিন তুমি ভগবান শিবের মুখে দিব্যজ্ঞান শুনবে, সেদিনই তোমার শাপমুক্ত ঘটবে।” মহাদেব দিব্যজ্ঞান বলছিলেন, মা পার্বতীর সাথে তোতাপাখী টিও শুনছিল । এই সময় মহাদেব নিজ ত্রিশূল, ডমরু , অর্ধচন্দ্র, কন্ঠের নাগরাজ কেউ সাথে রাখেন নি । এই সময় মাতা পার্বতী অল্প নিদ্রামগ্ন হয়েছিলেন। কিন্তু তোতাপাখী
রুপী রাজা শুনছিলেন। দিব্য জ্ঞান সমাপ্ত হতে হতে ভগবান শিব পুরো বরফে আবৃত হয়ে একটি লিঙ্গের আকার নিয়েছিলেন। এটাই অমরনাথ লিঙ্গ। দিব্য জ্ঞান সমাপ্ত হলেন ভগবান শিব দেখলেন তোতাপাখিটিও সেই জ্ঞান শুনছেন । ভগবান শিব
ভয়ানক কালভৈরব মূর্তি ধরে তোতাপাখীকে বধ করতে গেলে তোতাপাখী প্রান ভয়ে উড়ে যায়। ভগবান শিব তাঁর পিছু পিছু গমন
করেন। সে সময় বদ্রিকা তীর্থে ব্যাসদেবের পত্নী স্নান সেড়ে নদীতে সূর্য বন্দনা করছিলেন। তোতাপাখীটি তার মুখ দিয়ে উদরে
গমন করেন। ভগবান শিব ও মা পার্বতী , রাজাকে শাপমুক্ত করবার জন্য ও অমরনাথ তীর্থ প্রকট করবার জন্যই এমন লীলা
করেছিলেন। ভগবান শিব সব জানতেন । তিনি এভাবে রাজাকে শাপমুক্ত করলেন । সেই তোতাপাখী রুপী রাজা পরজন্মে ব্যাস পুত্র শুকদেব হয়ে জন্মালেন ।
ছবিটি সেই শক্তিপীঠের। দর্শন করুন ।
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.