ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

জ্বালামুখী শক্তিপীঠ(দ্বিতীয় পর্ব )


soktipithপূর্ব পর্বে আমরা ভক্ত শ্রীধরের ভক্তির কথা জেনেছি । এবার জানি পীঠ সম্বন্ধে । এই পীঠের দেবী হলেন- সিদ্ধিদা আর ভৈরব হলেন উন্মত্ত । আবার কারোর মতে এই পীঠের দেবী হলেন অম্বিকা, ভৈরব হলেন উন্মত্ত । আবার কিছু পণ্ডিত দের মত দেবী হলেন অম্বিকা, ভৈরব হলেন বটুকেশ্বর । এখানে দেবী সতীর জিহ্বা পড়েছিল । মায়ের মন্দিরে কোনো বিগ্রহ নেই। মন্দিরের আশে পাশে প্রচুর ডালা কেনার দোকান দেখা যায়, যারা যাবেন, তারা মন্দিরের সংলগ্ন দোকান থেকেই নারিকেল, ধূপকাঠি, মোমবাতি, পূজো দেবার শুকনো ফল, সন্দেশ পাবেন । মন্দিরের তোরণদ্বার টি বিশাল। সেখানে শিল্পীর অদ্ভুত কারুকার্যের নিখুত ছোয়া লেগে আছে । দুপাশে দুটি বাঘের মূর্তি, এত সুন্দর মনে হয় যেনো জীবন্ত। বাঘ হল ভগবতীর বাহন । তাই মায়ের মন্দিরে মায়ের বাহন কেউ পূজা করা হয় । এর পর সূর্য কুন্ডের পাশ দিয়ে মন্দিরের দিকে যেতে হয় । সূর্য কুন্ড এক অপূর্ব দিব্য অলৌকিক কুন্ড। মানুষের বিশ্বাস এখানে স্নান করলে সর্ব পাপ নাশ হয় । তাই ভক্তেরা এখানে স্নান সেড়ে ভিক্ষুক দের দান ধ্যান করেন। তীর্থে গিয়ে অবশ্যই দান ধ্যান করতে হয় । পাশেই ভগবান বিষ্ণুর পদচিহ্ন একটি মন্দির আছে, পরম শ্রদ্ধায় ভক্তেরা সেখানে ভগবান বিষ্ণুর শরণাগত হয় । মায়ের মন্দিরের উত্তর দিকের দেওয়ালের মাঝে মায়ের মূল জ্যোতি বা আগুনের শিখা বিরাজমানা । বলা হয় এই শিখার মধ্যেই মায়ের বিগ্রহ আছে । এই আগুনের শিখাই হলেন মা জগদম্বা সিদ্ধিদা, অম্বিকা, জুয়ালা । মা এক। ভক্তেরা যে যে নামে ডাকে । যারা সেখানে মাকে কালী রূপে বন্দনা করবেন- মা তাদের কে কালী রূপেই কৃপা করবেন । এই আগুনের শিখা অনবরত বের হয়ে আসছে । কোনদিন নেভেনি । নেভানোর চেষ্টা করা হয়েছিল একবার – তবুও নেভেনি। পরে সেই ঘটনা বলবো । মূল জ্যোতি ছাড়া আরোও ৬ টি দিব্য জ্যোতি দেখা যায় । এই ৬ টি দিব্য জ্যোতি হল মায়ের ৬ টি রূপ। মোট সাতটি অগ্নিশিখা হলেন- চণ্ডিকা, হিংলাজমাতা, বিন্ধ্যবাসিনী, মহালক্ষ্মী, মহাসরস্বতী, অম্বিকা ও অঞ্জনা । এঁনাদের একত্রে সপ্ত মাতৃকা বলা হয় । ভক্তদের বিশ্বাস এই শিখাগুলি নাকি স্পর্শ করলে হাত পোড়ে না । শুধু মৃদু তাপ অনুভূত হয় । মুঘল সম্রাট আকবর, দেবীর মহিমা প্রত্যক্ষ করতে একবার এই পীঠে আসেন। আবুল ফজলের রচিত ‘আইন- ই – আকবরি’ তেও এই পীঠের কথা উল্লেখ আছে । প্রথমে আকবর, মা জুয়ালার ক্ষমতাকে বিশ্বাস করতেন না। ভারতবর্ষে তখন দিল্লীতে রাজত্ব করছিলেন বাদশা আকবর। সারা দেশে ছিল মুঘল শাসন । এই অবস্থায় একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটে। তাঁর ফলে আকবর , দেবীর মহিমা স্বীকার করেন । দেবীর মন্দিরে একটি সোনার ছাতা প্রদান করেন । আগামী পর্বে সেই ঘটনা বলা হবে । তন্ত্র শাস্ত্রে এই পীঠ সম্বন্ধে বলা হয় – “জ্বালামুখ্যাঁ তথা জিহ্বা দেব উন্মত্ত ভৈরবঃ অম্বিকাসিদ্ধিনান্মী-।” ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যে বলা হয়- জ্বালমুখে জিহ্বা তাহে অগ্নি অনুভব । দেবী অম্বিকা নাম উন্মত্ত ভৈরব।।
এই ছবিটি সেই পীঠের । দেখুন মায়ের দিব্য শিখা । দর্শন করুন। মাকে প্রনাম জানান ।
( চলবে )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.