ক্যাটাগরিসমূহ
শক্তি পীঠ

করবীর বা শর্করা শক্তিপীঠ


No imageআদ্যাশক্তি পরমাপ্রকৃতি মায়ের লীলা কথা কে বর্ণিতে পারে ? যিনি সত্ত্ব গুনে মহাসরস্বতী, রজঃ গুনে মহালক্ষ্মী, তমঃ গুনে মহাকালী । ব্রজে কাত্যায়নী রূপে গোপিনীদের কৃষ্ণ প্রাপ্তির আশীষ দিয়েছিলেন । আবার তিনি অন্নপূর্ণা রূপে সংসার কে ভরে রেখেছেন অন্নে। দুর্গম বিপদ থেকে রক্ষা করেন সেই মা দুর্গা। বিপদত্তারিনী চণ্ডী রূপে তিনি বিপদ কে দূরে সরিয়ে দেন। তিনি সঙ্কটনাশিনী। আবার তিনি বিষ্ণুর নেত্র বাসিনী যোগমায়া । মধু আর কৈটভের কাছে আক্রান্ত হয়ে প্রজাপতি ব্রহ্মা কাতর স্মরে স্তব করেছিলেন ভগবান বিষ্ণুর যোগনিদ্রা কে । সেই মহাদেবী মোহ মায়া আদি বন্ধনের কারন। আবার সেই মহাদেবী প্রসন্না হলে মুক্তি দাত্রী রূপে বন্ধন মোচন করেন । শ্রী শ্রী চণ্ডী তাই বলেন-
তন্নাত্র বিস্ময়ঃ কার্যো যোগনিদ্রা জগৎপতেঃ । মহামায়া হরেশ্চৈতত্তয়া সংমোহ্যতে জগৎ ।।
এর অর্থ হল- সেই মহামায়াই জগৎপতি ভগবান বিষ্ণুর যোগনিদ্রা । এই শক্তি জগতের সকল জীবকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছেন । অতএব এ বিষয়ে বিস্মিত হওয়া উচিৎ না । সা বিদ্যা পরমা মুক্তের্হেতুভূতা সনাতনী । সংসারবন্ধহেতুশ্চ সৈব সর্বেশ্বরেশ্বরী ।। এর অর্থ- তিনি সংসার মুক্তির হেতুভূতা পরমা ব্রহ্মবিদ্যা রূপিনী ও সনাতনী । তিনি সংসার বন্ধনের কারন আবার তিনি ঈশ্বরের ঈশ্বরী । মহামায়ার লীলাখেলা তে এই ব্রহ্মাণ্ড গতিমান । ভগবান বিষ্ণুর চক্রে খন্ডিত হয়ে দেবী সতীর ত্রিনেত্র এসে পড়েছিল শর্করা নামক স্থানে ? এই স্থান কোথায় ? পণ্ডিত গনের মতে এই স্থান বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের আধুনিক শহর সুক্কুর বা শক্কর জেলায় । কিন্তু আসল ব্যাপার সেই স্থানে কোনো শক্তিপীঠের অস্তিত্ব মেলে নি। অনেক পণ্ডিত দের ধারনা করবীরপুর হল এই শক্তি পীঠ। কিন্তু করবীরপুর কোথায় ? কালিকাপুরান মতে ব্রহ্মাবর্তদেশের রাজধানী । ব্রহ্মাবর্তদেশ বলতে পূর্ব পাঞ্জাব কে বোঝায় । কালিকাপুরান তাই বলে । ব্রহ্মাবর্তদেশ অবস্থিত ছিল সরস্বতী ও দূষদবতী নদীর মধ্যে । করবীরপুর বলতে ভারতবর্ষের পশ্চিমে পাতিয়ালা, আম্বালা, কার্নাল অঞ্চল কে বোঝায় । কিছু পণ্ডিত দের ধারনা বর্তমান মহারাষ্ট্রের কোলহারপুরে অবস্থিত এই পীঠ। এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল করবীর । এই শক্তিপীঠের যথার্থ স্থান অনিশ্চিত । দেবীর ত্রিনেত্র থেকে মহিষমর্দিনী দেবীর আবির্ভাব হয়। এই দেবীর ভৈরব হলেন ক্রোধীশ । মা চণ্ডী দুরাচারী মহিষাসুর কে বধ করেছেন বলে তাঁর এক নাম মহিষমর্দিনী চণ্ডী । মহিষমর্দিনী দেবী প্রচণ্ড তেজের রূপ। কেউ কেউ বলেন পাকিস্তানের করাচী তেই এই ত্রিনেত্র পড়েছিল। কিন্তু সেখানে কোনো দেবীর মন্দির নেই। হয়তো কোথাও থাকলেও থাকতে পারে গুপ্ত ভাবে । মহিষাসুরের ঘটনা সবাই জানেন। রম্ভ অসুরের পুত্র মহিষাসুর প্রজাপতি ব্রহ্মার বর দান পেয়ে ভীষন অত্যাচারী হয়ে উঠলে ত্রিদেব ও দেবতাদের তেজে তাঁর আবির্ভাব ঘটে । দেবী ও তাঁর বাহন মিলে অসুর সৈন্য, চামড়, চিখুর, বিড়ালাক্ষ, সুগ্রীব, মহাহনু ও অন্তিমে মহিষাসুরকে বধ করেন । দশভুজা দেবী বার বার অসুর দমন করতে আবির্ভূত হন। পরবর্তী কালে দেখবো তিনি ভন্ডাসুর, দারুকাসুর, দুর্গম, অরুন, গন্ধক অসুরকে কিভাবে বধ করেছেন । দেবীর এই পীঠের অস্তিত্ব প্রামান্য ভাবে না পাওয়া গেলেও দেবী কিন্তু কাল্পনিক নন । তিনি আদি, সনাতনী, ব্রহ্মময়ী । অতএব তিনি সকলের মধ্যেই শক্তি রূপে বিরাজিতা । প্রতিটি নারী হল দেবীর রূপ । ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবকে পরীক্ষা নেবার জন্য একদিন রানী রাসমণির জামাই মথুরানাথ বাবু কিছু গণিকা দের পাঠিয়েছিলেন। ঠাকুর সেই গণিকা দের মধ্যে ভবতারিনী মাকে দেখে প্রনাম করলেন । সকল নারী অন্নপূর্ণা । সুতরাং নারী জাতিকে সম্মান করাই যথাযোগ্য শক্তিপূজা । আর যে স্থানে নারীদের অমর্যাদা হয় সেই স্থান ধ্বংস করেন স্বয়ং মা নিজেই ।
( আগামী পর্বে সুগন্ধা শক্তিপীঠ থাকবে । এটি বাংলাদেশের বরিশালে অবস্থিত । আপনাদের কাছে ছবি থাকলে অবশ্যই কমেন্ট এ দিন । )

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.